আজ পবিত্র জুমাবার, মুসলমানদের সাপ্তাহিক শ্রেষ্ঠ দিন

আলহামদুলিল্লাহ …। আজ পবিত্র শুক্রবার, শুক্রবারকে বলা হয় ইয়াওমুল জুমাআ বা জুমার দিন। সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন জুম্মাবার। আরবি শব্দ জুমুআ-এর অর্থ

একত্র হওয়া। আল্লাহতায়ালা এই দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই দিনে মুসলিম উম্মাহ সাপ্তাহিক ঈদ ও ইবাদত উপলক্ষে মসজিদে একত্র হয় বলে দিনটাকে ইয়াওমুল জুমাআ বা জুমার দিন বলা হয়।

আল্লাহতায়ালা এই দিনের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝ।’ সূরা জুমুআ :০৯ ।

শুক্রবারের দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ ও ইমামের খুতবাকে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের

স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সপ্তাহের এদিনে জুমার খতিব উম্মতের যাবতীয় প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দেশনা ও সমাধানমূলক উপদেশ দেন তার খুতবায়। প্রথম হিজরিতে জুমার নামাজ ফরজ হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরতকালে কুবাতে অবস্থান শেষে শুক্রবার দিনে মদিনা পৌঁছেন এবং বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছে জোহরের ওয়াক্ত হলে সেখানেই তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। এটাই ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ।

হজরত তারেক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি—এই চার প্রকার মানুষ ছাড়া সকল মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য (ফরজ)। (আবু দাউদ : ১০৬৭, মুসতাদরেকে হাকেম : ১০৬২ , আস্-সুনানুল কাবীর : ৫৫৮৭)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এ মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দপ্তরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তন ও করা যাবে না। (তাফসিরে মাজহারি ,খণ্ড : ৯ , পৃষ্ঠা : ২৮৩)

মালেক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে সাব্বাক থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কোনো এক জুমার দিনে বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! আল্লাহতায়ালা জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছিলেন এই দিনে। এই দিনেই হজরত আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ)-কে জান্নাতে একত্র করেছিলেন।

জুমার দিনে কিছু করণীয়-বর্জনীয় রয়েছে। যা নিম্নে উল্লেখ করা হল:
জুমার দিন গোসল করা। যাদের ওপর জুমা ফরজ তাদের জন্য এদিনে গোসল করাকে রাসুল (সা.) ওয়াজিব করেছেন। (বোখারি : ৮৭৭)। পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে সেদিন নখ ও চুল কাটাও একটি ভালো আমল।

জুমার সালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা। (বোখারি : ৮৮০)। মেসওয়াক করা। (বোখারি : ৮৮৭)। গায়ে তেল ব্যবহার করা। (বোখারি : ৮৮৩)। উত্তম পোশাক পরিধান করে জুমা আদায় করা। (ইবনে মাজাহ : ১০৯৭)।

মুসল্লিদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা। (তিরমিজি : ৫০৯, ইবনে মাজাহ : ১১৩৬)। মনোযোগসহ খুতবা শোনা ও চুপ থাকা ওয়াজিব। (বোখারি : ৯৩৪, মুসলিম : ৮৫৭)। আগেভাগে মসজিদে যাওয়া। (বোখারি : ৮৮১, মুসলিম : ৮৫০)।

পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন করা। (আবু দাউদ : ৩৪৫)। জুমার দিন ফজর নামাজে প্রথম রাকাতে সূরা সিজদা আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা দাহর পড়া। (বোখারি : ৮৯১, মুসলিম : ৮৭৯)। সূরা জুমা ও মোনাফিকুন দিয়ে জুমার সালাত আদায় করা। অথবা সূরা আলাক ও সূরা গাশিয়া দিয়ে জুমা আদায় করা। (মুসলিম : ৮৭৭)। জুমার দিন ও রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। (আবু দাউদ : ১০৪৭)। এদিন বেশি বেশি দোয়া করা। (বোখারি : ৯৩৫)।

মুসল্লিদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের কাতারে আগানোর চেষ্টা না করা। (আবু দাউদ : ৩৪৩)। কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা। (বোখারি : ৯১১, মুসলিম : ২১৭৭)। জুমার আগে মসজিদে জিকর বা কোনো শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান না করা। অর্থাৎ ভাগ ভাগ, গোল গোল হয়ে না বসা। (আবু দাউদ : ১০৮৯)।

কেউ কথা বললে ‘চুপ করুন’ এটুকুও না বলা। (নাসায়ি : ৭১৪, বোখারি : ৯৩৪)। মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধূমপান না করা। (বোখারি : ৮৫৩)। ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা বদল করে বসা। (আবু দাউদ : ১১১৯)।

ইমামের খুতবা শ্রবণকালে দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা। (আবু দাউদ : ১১১০, ইবনে মাজাহ : ১১৩৪)। খুতবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হলেও ইমাম থেকে দূরে উপবেশনকারীরা বিলম্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদ : ১১০৮)।

জুমার দিন সূরা কাহফ তেলাওয়াত করা। এতে পাঠকের জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন। (হাকেম : ২/৩৬৮, বায়হাকি : ৩/২৪৯)। জুমার আজান দেয়া। (বোখারি : ৯১২)। জুমার ফরজ নামাজ আদায়ের পর মসজিদে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করা। (বোখারি : ১৮২)।

ওজর ছাড়া একই গ্রাম ও মহল্লায় একাধিক জুমা চালু না করা। আর ওজর হলো এলাকাটি খুব বড় হওয়া, প্রচুর জনবসতি থাকা, মসজিদ দূরে হওয়া, মসজিদে জায়গা না পাওয়া বা কোনো ফেতনার ভয় থাকা। (মুগনি লিবনি কুদামা : ৩/২১২)। অজু ভেঙে গেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে অজু করা। (আবু দাউদ : ১১১৪)।

একান্ত ওজর না থাকলে দুই পিলারের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় নামাজ আদায় না করা। (হাকেম : ১/১২৮)। নামাজের জন্য কোনো একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই নামাজ আদায় করা। (আবু দাউদ : ৮৬২)। কোনো নামাজির সামনে দিয়ে না হাঁটা। (বোখারি : ৫১০)।

এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোনো কিছু না পড়া, যাতে অন্যের নামাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। (আবু দাউদ : ১৩৩২)। খুতবার সময় খতিবের কোনো কথার সাড়া দেয়া বা তার প্রশ্নের উত্তর প্রদানে কোনা সমস্যা নেই। (বোখারি : ১০২৯, মুসলিম : ৮৯৭)।

হানাফি ওলামায়ে কেরামের মতানুযায়ী, ভিড় বেশি হলে সামনের মুসল্লির পিঠের ওপর সেজদা দেয়া জায়েজ (আহমাদ : ১/৩২)। দরকার হলে পায়ের ওপরও দিতে পারে। (আর রাউদুল মুরবি)।

যেখানে জুমার ফরজ আদায় করা হয়েছে, উত্তম হলো ওই একই স্থানে সুন্নত না পড়া।এবং কোনো কথা না বলে পরবর্তী সুন্নত নামাজ আদায় করা। (মুসলিম : ৭১০, বোখারি : ৮৪৮)। ইমাম-খতিব সাহেব মিম্বরে এসে হাজির হওয়ার আগ পর্যন্ত তাসবিহ-তাহলিল, তওবা-এস্তেগফার ও কোরআন তেলাওয়াতে রত থাকা।

বাবরি মসজিদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক আদালতে মা’মলা করার ঘোষণা কুয়েতের বিখ্যাত আইনজীবির !

সম্পূর্ণ কল্পনার স্রোতে ভেসে মসজিদের স্থানেই রামের জন্মের ধোয়া তুলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ।

সেই ধ্বং’সস্তুপের উপর এই শেষ পেরেক পুঁ’তে দেয় হিন্দু ধর্মের একাংশের বিশ্বাস অনুযায়ী ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়।কয়েক শতাব্দী প্রাচীন মসজিদের ধ্বং’সস্তুপের উপর গড়ে উঠবে রামমন্দির। আগামী ৫ ই আগস্ট হবে বি’তর্কিত স্থানে রাম মন্দিরের শিলান্যাস এবং ভীত পুজো।

উপস্থিত থাকবেন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার বাবরী মসজিদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের শরণাপন্ন হতে চলেছেন কাতারের কুয়েতের একজন বিখ্যাত আইনজীবী।

বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দিরের শিলান্যাস হওয়ার ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার ও সম্প্রতি এ বিষয়ে তাদের ক্ষেদ ব্যক্ত করেছে।এবার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়েতের বিশ্ব বিখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান মুজবিল আল শুরেকা।

মিস্টার সুরকা তিনি তার সর্বশেষ টুইটে। একটি চিঠি শেয়ার করেছেন যেখানে তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড কে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতির অনুরোধ জানিয়েছেন।

চলতি হজের জন্য নতুন খতিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন খতিব হলেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া (Sheikh Abdullah bin Sulaiman Al Manea)।তিনি ৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) মসজিদে নামিরা থেকে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে বারোটার পর হজের খুতবা দেবেন।

এদিন হজযাত্রীরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন। আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে পড়া হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এক রাজকীয় ফরমানে শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া হলেন সবচেয়ে বেশি বয়স্ক হজের খতিব। আরাফাতের ময়দানে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা দেওয়া হয়।

আরবি ভাষায় দেওয়া হজের খুতবায় থাকে মুসলিম বিশ্বের জন্য নানা দিক-নির্দেশনা। এ বছর পবিত্র হজের আরবি খুতবা বাংলাসহ আরও নয়টি ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হবে।

এ লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই নয় ভাষা হলো- ইংরেজি, মালয়, উর্দু, ফার্সি, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন, তুর্কি, রুশ ও হাবশি। ২০১৯ সালের হজে ৫ ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ প্রচারিত হয়েছিল।৯২ বছর বয়সী শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া আইনজ্ঞ হিসেবে বেশ প্রসিদ্ধ।

তিনি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির ইসলামিক ফিকহ একাডেমির সদস্য। এর আগে তিনি মক্কা আল মোকাররামা কোর্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শায়খ আবদুল্লাহ মানিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন ব্যাংকের শরীয়া কমিটিতে আছেন। এছাড়া তিনি জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে জড়িত। শরীয়া আইন নিয়ে তিনি পিএইচডি ডিগ্রী নিয়েছেন।

তিনি একজন লেখক। শারিয়া শা’সন ব্যবস্থা ও ইসলামিক অর্থনীতি বিষয়ে তার উল্লেখযোগ্য রচনা রয়েছে। ১৯৮১ সাল থেকে টানা ৩৫ বছর হজের খুতবা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আশ শায়খ। ২০১৬ সালে তিনি বা’র্ধক্যজনিত কারণে অবসর নেন।

এর পর থেকে প্রতি বছর একজন করে নতুন খতিব নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালে হজের খুতবা দেন মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম ও খতিব ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস।

সুললিত কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াতের দরুণ বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয় ড. সুদাইসকে হজের খতিব হিসেবে স্থায়ী মনে করা হলেও ২০১৭ সালে ঘোষণা হয় শায়খ ড. সাআদ আশ শাসরি এবার হজের খুতবা দেবেন।
ইসলামি আইনে অভিজ্ঞ ও সুপণ্ডিত ড. আশ শাসরিকে ভাবা হচ্ছিল তিনিই হয়তো স্থায়ীভাবে হজের খুতবা দেওয়ার দায়িত্বটি পালন করবেন।

কিন্তু না, ২০১৮ সালে হজে খুতবা দেওয়ার জন্য নতুন আরেকজন খতিব নির্বাচন করা হলো।তিনি হলেন, শায়খ ডা. হুসাইন বিন আবদুল আজিজ আশ শায়েখ। পর পর তিন বছর নতুন খতিব নিয়োগের পর ধরে নেওয়া হচ্ছে, সৌদি সরকার এ পদে হয়তো স্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগ দেবে না।

২০১৯ সালে শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আলে শায়খকে হজের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ ও মুফতি বোর্ডের সদস্য এবং খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সের পরিচালক।

এবার হজের দিন মসজিদে নামিরা মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শায়খ ইমাদ বিন আলি ইসমাইল। তিনি মসজিদের হারামের নিয়মিত মুয়াজ্জিন। সূএঃ ইন্টারনেট

ঘুম না আসলে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি

ঘুম বান্দার জন্য আল্লাহর এক মহা অনুগ্রহ। মানুষ ঠিকভাবে ঘুমাতে না পারলে দুনিয়ার কোন কাজই সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবে না।
মানসিক প্রশান্তরি অন্যতম উপসর্গও এ ঘুম। কিন্তু সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের অধিকাংশকেই ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমাতে হয়। আবার অনেকে ঘুমের ঔষধেও কাজ হয় না।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত একটি দোয়া রয়েছে যা ঘুমের আগে পড়লে ঘুম চলে আসবে। যে দোয়া পড়তে তিনি সাহাবি হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত সুলাইমান ইবনে বুরাইদা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ আল-মাখজুমি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ দায়ের করে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! দুঃশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারণে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, যখন তুমি বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করো (ঘুমাতে যাও) তখন বলো-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَىَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَلَىَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া মা আজাল্লাত ওয়া রাব্বাল আরদিনা ওয়া মা আকাল্লাত ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বিনি ওয়া মা আদাল্লাত কুন লি ঝারাম মিন শাররি খালক্বিকা কুল্লিহিম ঝামিআ। আইঁইয়াফরুত্বা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও আইঁইয়াবগিয়া আলাইয়্যা আয্যা ও ঝাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা ও লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ (মুসলিম, মিশকাত)

অর্থ : “হে আল্লাহ! সাত আকাশের প্রভু এবং যার ওপর তা ছায়া বিস্তার করেছে, সাত জমিনের প্রভু এবং যা কিছু তা উত্থাপন করেছেন, আর শয়তানদের প্রতিপালক এবং এরা যাদেরকে বিপথগামী করেছে!

তুমি আমাকে তোমার সব সৃষ্টিকুলের অনিষ্টতা থেকে রক্ষার জন্য আমার প্রতিবেশী হয়ে যাও, যাতে সেগুলোর কোনোটি আমার ওপর বাড়াবাড়ি করতে না পারে অথবা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে না পারে। সম্মানিত তোমার প্রতিবেশী, সুমহান তোমার প্রশংসা। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি ব্যতিত আর কোনো মাবুদ নেই।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রচন্ড মানসিক চাপ ও অস্বস্তিতে এ দোয়া পড়ে ঘুম লাভের তাওফিক দান করুন। আর ঘুমের মাধ্যমে শারীরিক প্রশান্তি লাভে হাদিসের আমল যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। করুন। আমিন।-জাগো নিউজ

মসজিদের আজানের ধ্বনি ছাড়া ফোটে না এই অদ্ভুত ফুল!

মসজিদে মুয়াজ্জিনের সুরেলা কন্ঠে যখন আজানের বাণীগুলো উচ্চারিত হয়, তখন এর সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে ফোটে উঠে এক ফুল। আজানের ধ্বনি যেন ফুলগুলোকে ইবাদতের জন্য জাগ্রত করে। প্রতিটি সমুধুর ধ্বনিতে পাপড়িগুলোও ক্রমান্বয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠে।

ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং এশা প্রত্যেক ওয়াক্তে আজানের সঙ্গে সঙ্গে ফোটে এই অদ্ভুত ফুল। আর সেকারণেই ফুলটির নাম দেয়া হয় আজান ফুল।

এদিকে আজারবাইজানের এক মুসলিম গ্রামে মোহাম্মদ রহিমের বাগানে সন্ধান পাওয়া যায় অদ্ভুত এই আজান ফুলের। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজানের সময় এই ফুল ফোটে, আবার আজানের শেষ হলে চুপসে যায়।

এই ফুলকে অনেকেই ‘ইভিনিং প্রাইমরোজ’ বা ‘সানকাপস’ বা ‘সানড্রপস’ নামে চেনেন। ১৪৫ প্রজাতির মধ্যে এটি একটি হলদে রঙের ফুল। ধারণা করা হয় এ ফুলের উৎস আমেরিকাতে। এটি হারবেকয়াস উদ্ভিদ প্রজাতির বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

এদিকে অন্য গানের সুর বা কখনো আজানের মতো করে অন্য কোনো সুর দিয়েও গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন কিন্তু এ ফুল ফোটাতে পারেনি। এই ফুল ফোটার ঘটনাটি আল্লাহর অপার মহিমা। সুবহান আল্লাহ!

সুবহানাল্লাহ: ১০০ বছর আগে যেমনটা ছিল আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরীফ

কাবা শরিফের গেলাফের ইতিহাস স্বয়ং কাবার ইতিহাস থেকে আলাদা নয়। কাবার গিলাফের গুরুত্ব,মুসলিমদের নিকট তার পবিত্রতা ও উচ্চ মর্যাদা প্রকাশিত।

কাবার গিলাফ : এক ধরনের বিশেষ কাপড়ে পবিত্র কাবা শরিফকে আবৃত করে রাখা হয়। একে আমরা বলি গিলাফ এবং আরবরা বলে কিসওয়া। হজের কয়েকদিন আগে কাবার নিচের অংশ থেকে গিলাফ কিছুটা উপরে তুলে দেয়া হয় যাতে কাবা শরিফের বাইরের অংশ দেখা বা ধরা যায়। গিলাফের ইতিহাস কাবা শরিফের ইতিহাস থেকে শুরু হয়েছে।

জানা যায়, তুব্বা আল হোমায়রি প্রথমে মোটা কাপড় দিয়ে গিলাফ তৈরির প্রচলন শুরু করেন। ইসলাম পূর্ব সময়ে অনেকে কাবা শরিফের গায়ে গিলাফ পরিয়েছেন, কারণ তারা এটিকে ওয়াজিব মনে করতেন। তখন একটার উপর আরেকটা গিলাফ পরানো হত। গিলাফগুলো ভারী বা পুরাতন হয়ে গেলে সরিয়ে ফেলা হত। গিলাফের উপর গিলাফ পরানোর ফলে ওজন বেড়ে কাবা শরিফের দেয়াল ভেঙে যাওয়ার আশংকা সৃষ্টি হলে ১৬০ হিজরিতে খলিফা আল মাহদী কাবা শরিফের গায়ে একই সময়ে একটার বেশি গিলাফ পরানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। আব্বাসী খলিফা আল মামুনের সময়ে কাবা শরিফের গায়ে তিনবার

গিলাফ পরানো হত। প্রথমবার ৮ জিলহজ লাল সিল্কের গিলাফ, দ্বিতীয়বার ১ রজব মিসরীয় সাদা কাবাতি কাপড়ের গিলাফ এবং তৃতীয়বার ২৯ রমজান সিল্কের তৈরি গিলাফ লাগানো হত। আব্বাসীয় খলিফ আল নাসির প্রথমে কাবা শরিফে সবুজ ও পরে কালো রঙের গিলাফ পরান। সেখান থেকে আজ পর্যন্ত কাবা শরিফে কালো রঙের গিলাফ লাগানো হচ্ছে। ৭৫১ হিজরিতে মিসরের বাদশাহ ইসমাইল বিন নাসের বিন কলাউন কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির জন্য একটি বিশেষ ওয়াকফ ঘোষণা করেন। এই ওয়াকফ থেকে প্রতি বছর খানায়ে কাবার জন্য বাইরের একটি কালো গিলাফ এবং একটি অভ্যন্তরীণ লাল গিলাফ

তৈরি করা হত। এখন কাবা শরিফের দরজা ও বাইরের গিলাফ দুটোই মজবুত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। গিলাফের মোট ৫টি টুকরো তৈরি করা হয়। চারটি টুকরো চারদিকে এবং বাকি টুকরোটি দরজায় লাগানো হয়। টুকরোগুলো পরস্পর সেলাই করা থাকে। বর্তমানে প্রতি বছর ৯ জিলহজ কাবা শরিফের গায়ে পরানো হয় নতুন গিলাফ। নতুন গিলাফ পরানোর সময়ে পুরাতন গিলাফটি সরিয়ে ফেলা হয়। পরে পুরাতন গিলাফটি কেটে মুসলিম দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের উপহার দেয়া হয়। প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন রেশম দিয়ে তৈরি করা হয় কাবার গিলাফ। রেশমকে রং দিয়ে কালো করা হয়। পরে গিলাফে বিভিন্ন

দোয়ার নকশা আঁকা হয়। গিলাফের উচ্চতা ১৪ মিটার। উপরের তৃতীয়াংশে ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া বন্ধনীতে কোরআনের আয়াত লেখা। বন্ধনীতে ইসলামি করুকার্যখচিত একটি ফ্রেম থাকে। বন্ধনীটি সোনার প্রলেপ দেয়া রুপালি তারের মাধ্যমে এমব্রয়ডারি করা হয়। এই বন্ধনীটি কাবা শরিফের চারধারে পরিবেষ্টিত থাকে। ৪৭ মিটার লম্বা বন্ধনীটি ১৬ টুকরায় বিভক্ত থাকে।

বন্ধনীটির নিচে প্রতি কোনায় সূরা ইখলাস, নিচে পৃথক পৃথক ফ্রেমে লেখা হয় কোরআনের ছয়টি আয়াত। এতে এমব্র্রডারি করে উপরে সোনা ও রুপার চিকন তার লাগানো হয়। এছাড়া গিলাফে ১১টি নকশা করা মোমবাতির প্রতিকৃতি বসানো হয়। এগুলো কাবা শরিফের চার কোণে লাগানো হয়। খানায়ে কাবার দরজার পর্দাটিকে বলা হয় বোরকা। এটাও কালো রেশম কাপড় দিয়ে তৈরি। এর উচ্চতা সাড়ে সাত মিটার ও প্রস্থ চার মিটার। এতে ইসলামি নকশা ও

কোরআনের আয়াত লেখা থাকে।এ লেখাগুলোও সোনা ও রুপার চিকন তার দিয়ে এমব্রয়ডারি করা হয়। কাবার গিলাফের প্রতিটি কাপড়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৬৭০ কেজি রেশম, ১৫০ কেজি সোনা ও রুপার চিকন তার। ৪৭ থান সিল্কের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় এই গিলাফ। যার মোট আয়তন ৬৫৮ বর্গ মিটার। প্রতিটি থান এক মিটার লম্বা ও ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া। একটা আরেকটার সাথে সেলাই করা থাকে। প্রতিবছর দুটি করে গিলাফ তৈরি করা হয়। একটি মূল এবং অপরটি সতর্কতার জন্য তৈরি করে রাখা হয়।

একটি গিলাফ হাতে তৈরি করা হয়, যেটা তৈরিতে সময় লাগে আট-নয় মাস। অন্যটি মেশিনে মাত্র এক মাসে তৈরি করা হয়। গিলাফ তৈরি করার পর তা কাবা শরিফের চাবির রক্ষক বনি শাইবা গোত্রের মনোনীত সেবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সবার সহযোগিতায় গিলাফ কাবা শরিফের গায়ে চড়ানো হয়। কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির কারখানাটি মক্কার উম্মুল জুদে অবস্থিত।

এই কারখানাটি ৬টি অংশে বিভক্ত, যথা : বেল্ট, হস্তশিল্প, যান্ত্রিক, ছাপা, রং এবং অভ্যন্তরীণ পর্দা বিভাগ। এই কারখানায় বর্তমানে ২৫০ জনের বেশি কর্মচারী নিয়োজিত আছেন।

রাসুল (সা.)এর পূর্বে কাবার গিলাফ : ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বলেন,‘একাধিক আলেমের কথা থেকে জানতে পারি যে সর্বপ্রথম “তুব্বা” আসাদ আল-হেমইয়ারি কাবার গিলাফ লাগান। তিনি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কাবা ঘরের গিলাফ লাগাচ্ছেন।সেই জন্য তিনি চামড়ার গিলাফ চড়ান। এর পরও তাকে স্বপ্নে আরও গিলাফ লাগানোর কথা বলা হচ্ছে। তাই তিনি ইয়েমেনের তৈরি লাল কাপড়ের গিলাফ লাগান’[আখবারে মক্কা-আযরুকী]। এরপর জাহেলি যুগে অনেকে নিজ নিজ যুগে গিলাফ লাগিয়েছেন। কারণ এটিকে তারা দ্বীনের অপরিহার্য কর্ম মনে করত; যে যখন ইচ্ছা করত তখন যে কোন প্রকারের গিলাফ লাগাতে পারত। (তৎকালীন সমহ ও প্রকারের কোন শর্ত ছিল না)। কাবায় হরেক রকম গিলাফ লাগান হত। যেমনঃ চামড়ার, মাআফির (ইয়েমেনের হামদান

গ্রামের তৈরি কৃত কাপড়ের গিলাফ), ইয়েমেনের তৈরি লাল পাড়ের গিলাফ, পাতলা ও হালকা কাপড়ের গিলাফ এবং ইয়েমেনের কারুকাজ করা কাপড়ের গিলাফ।তখন কাবায় গেলাফের উপর গিলাফ লাগান হত। যখন বেশী ভারী হয়ে যেত অথবা কোন গিলাফ পুরাতন হয়ে যেত তখন সেটিকে তুলে নিয়ে বরকত হাসিলের জন্য বণ্টন করা হত অথবা মাটিতে দাফন করা হত। জাহেলি যুগে কুরাইশরা আপোষে সহযোগিতার মাধ্যমে গিলাফ তৈরি করত। আর্থিক অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রতি গোত্রের টাকার পরিমান নির্ধারণ করা হত। ‘কুসসীর’ যুগেও এই পদ্ধতি চালু ছিল। তবে যখন রাবীআ ‘মুগীরা বিন মাখযুমীর যুগ আসে তখন তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে ইয়েমেন যাওয়া আসা করতেন। তিনি অতি ধনী ছিলেন। তিনি ঘোষণা করেন আমি এক বছর একাই গিলাফ দিব। আর

এক বছর কুরাইশরা সকলে মিলে দিবে। তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত একাই এই কাজ করতে থাকেন। তিনি ইয়েমেনের জানাদ শহর থেকে সুন্দর সুন্দর কাপড় আনতেন এবং গিলাফ তৈরি করে লাগাতেন। কুরাইশরা তার উপাধি দেয় ‘আদল’ কারণ তিনি একাই সমস্ত কুরাইশদের সমান কাজ করেছেন। তার সন্তানদের উপাধি দেয় ‘বানু আদল’। আরবী ভাষায় ‘আদল’ এর অরথ সমতুল্য। কাবায় সর্বপ্রথম রেশমের গিলাফ লাগান একজন আরব মহিলা, যিনি ছিলেন আব্বাস (রাঃ) এর মা ‘নুতাইলা বিনতে জানাব’।

ইসলামী যুগে কাবার গিলাফ : রাসুল (সা.) ও তাঁর সাহাবাগন মক্কা বিজয়ের পূর্বে কাবায় গিলাফ চড়াননি। কেননা কুফফাররা এ কাজে অনুমতি দিত না। মক্কা বিজয়ের পরও রাসুল (সা.) কাবার গিলাফ পরিবর্তন করেননি। তবে জনৈক মহিলা কাবায় ধুপ দিতে গেলে তাতে (গেলাফে) আগুন লেগে যায় এবং

পুড়ে যায়। তারপর রাসুল (সা.) ইয়েমেনী কাপড়ের গিলাফ চড়ান। এরপর আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ), এবং উসমান (রাঃ) “কিবাতী” কাপড়ের গিলাফ চড়ান।একথা প্রমানিত আছে যে, মুআবিয়া বিন আবী সুফিয়ান বছরে দু’বার কাবায় গিলাফ চড়াতেন। আশুরার দিনে রেশমের এবং রমজানের শেষে কিবতী কাপড়ের গিলাফ লাগাতেন। এরপর ইয়াযীদ বিন মু’আবিয়া, ইবনে যুবায়ের আব্দুল্ল মালেক বিন মারওয়ান রেশমের গিলাফ চড়িয়েছেন।কাবায় প্রতি বছর দুটি গিলাফ চড়ানো হতঃ একটি রেশমের অপরতি কিবাতী কাপড়ের। রেশমি গেলাফের উপরের অংশ (যাকে কাসীস বলা হয়)জুলহিজ্জা মাসের ৮ তারিখে চড়ানো হত হাজীদের ফিরে যাওয়ার পর। যাতে তাদের হাত লেগে তা নষ্ট না হয়। রেশমের গিলাফ রামাদানের ২৭ তারিখ পর্যন্ত থাকতো এবং ঈদুল

ফিতরের জন্য কিবাতী কাপড়ের গিলাফ চড়ানো হত। বাদশাহ মামুনের যুগে কাবাকে তিনটি গিলাফ পড়ানো হত। জুলহিজ্জার ৮ তারিখে লাল রেশমি গিলাফ, রজবের প্রথম তারিখে কিবাতী এবং রামাদানের ২৭ তারিখে শ্বেত রেশমি গিলাফ। বাদশাহ মামুন যখন জানতে পারেন যে, সাদা রেশমি গেলাম হজ্জ্বের মৌসুমে নষ্ট হয়ে যাবে তখন আরও একটি সাদা গেলাফের ব্যবস্থা করেন। এরপর নাসের আব্বাসী সবুজ রঙের গিলাফ তারপর কালো রঙের গিলাফ চড়ান। সেই সময় থেকে আজও কালো গিলাফ চড়ানো হচ্ছে। আব্বাসী খেলাফত পতনের পর ৬৫৯ হিজরিতে সর্বপ্রথম ইয়েমেনী বাদশাহ ‘মুজাফফর’ কাবা

ঘরের গিলাফ লাগান। তিনি বেশ কয়েক বছর মিশরি বাদশাহর সঙ্গে পালাক্রমে গিলাফ চড়ানোর কাজ চালু রাখেন। ৬৬১ হিজরিতে আব্বাসীদের পর যে মিশরি শাসক সর্বপ্রথম গিলাফ চড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি হচ্ছেন বাদশাহ যাহের বাইবেরাস বন্দুকধারী। ৭৫১ হিজরিতে মিশরের বাদশাহ ইসমাইল বিন নাসের বিন মুহাম্মাদ বিন কালাউন কাবার গেলাফের জন্য বিশেষ ওয়াকফের ব্যবস্থা করেন। তিনি কাবার জন্য প্রতি বছর কালো গিলাফ ও প্রতি পাঁচ বছর পর মদীনায় রাসুল (সা.) এর রওজার জন্য সবুজ রঙের গিলাফ পাঠাতেন। কিন্তু ‘আল-খাদীউবী মুহাম্মাদ আলী’ হিজরির ১৩ শতাব্দীতে ওয়াকফ বন্ধ করেন

এব্বং সরকারী খরচে গিলাফ তৈরি হতে আরম্ভ করে। তুর্কির উসমানী খলীফাগণ কাবার ভিতরের গিলাফ নিজেদের জন্য খাস করে নেন। ৮১০ হিজরিতে কাবার দরজার জন্য নকশাদার চাদর তৈরি করা হয়; যাকে ‘বুরকা’ বলা হয়। অতঃপর ৮১৬ – ৮১৮ হিজরি পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় এবং পুনরায় ৮১৯ হিজরিতে আরম্ভ হয় যা আজও গেলাফের সাথে তৈরি করা হচ্ছে।

সৌদি যুগের গিলাফ : বাদশাহ আব্দুল আযীয বিন আব্দুর রহমান আলে সউদ মক্কা মদীনায় অবস্থিত দু’হারামের খেদমতের খুব গুরুত্ব দেন। এই গুরুত্বের ভিত্তিতে বাদশাহ সউদ বিন আব্দুল আযীয পবিত্র মক্কায় কাবার গিলাফ তৈরি করার জন্য বিশেষ এক কারখানা তৈরি করার আদেশ দেন এবং তাতে গিলাফ তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম মওজুদ করা হয়। ১৩৮২ হিজরিতে বাদশাহ ফয়সাল নতুন করে কারখানা তৈরি করার আদেশ দেন, যাতে উত্তম ও মজবুত গিলাফ

প্রস্তুত করা সম্ভব হয় এবং কাবা যেমন শানদার ঘর, তাঁর শানের উপযোগী হয়। ১৩৯৭ হিজরিতে মক্কায় ‘উম্মুল জুদ’ নামক স্থানে নতুন বিল্ডিং এর উদ্ভোধন করা হয়। তাতে গিলাফ তৈরির জন্য আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজিত হয়। সেখানে মেশিনের সাহায্যে গিলাফ তৈরির ব্যবস্থার সাথে সাথে হাতের কাজের যে কারুকার্য তা বজায় রাখা হয়েছে। কারণ শিল্প জগতে তার উচ্চ মূল্য রয়েছে। এই কারখানা ধারাবাহিক ভাবে উন্নতি শাধনের পথে রয়েছে এবিং হাতের কারুকার্য বহাল রেখেছে,যাতে কাবাকে অতি আকর্ষণীও গিলাফ উপহার দেওয়া সম্ভব হয়। সূত্র: প্রিয়.কম। লিখেছেন : মুফতি ইসা রুহুল্লাহ

সন্তানের সাফল্যের জন্য মায়ের দোয়াই যথেষ্ট

পৃথিবীর একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থান হলো মায়ের কোল। যত আবদার যত অ’ভিযো’গ সবই কিছু মায়ের কাছে। শুধু দশ মাস দশ দিন নয়, মা তার পুরো জীবন উৎস’র্গ করে দেন সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে। আমরা সেই মায়ের জন্য কতটুকুই বা করতে পারি?

গায়ের চামড়া দিয়ে মায়ের পায়ের জুতা বানিয়ে দিলেও তার ঋণ কখনো সন্তানরা শোধ করতে পারবে না। মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য কত বড় আর্শীবাদ সেই বোধ অনেকেরই নেই। আর তাইতো

বৃদ্ধাশ্রমে মা রেখেই শান্তিতে থাকেন তারা। আসলেই কি তারা সুখী হতে পারেন? একটি শিশু তার মায়ের প্রতি যথাযথা দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দোয়া অর্জন করে তার জীবনকে পরিবর্তন করতে পারে।

সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের গর্ব তিনি। একদিকে যেমন মাঠ সামলাম অন্যদিকে বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্যও নিষ্ঠতার সঙ্গে পালন করেন তিনি। বিশেষ করে মায়ের প্রতি সাকিবের কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেনছেন, বাবা-মায়ের দোয়া ছাড়া কখনো সফল হওয়া সম্ভব নয়। তারা আমাদের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

জীবনের শেষ দিন অবধি মা তার সন্তানের জন্য দোয়া করে যান। অথচ এর বিনিময়ে কখনোই তিনি কিছু প্রত্যাশা করেননা। ঠিক বাবাও তেমন। বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা সবচেয়ে খারাপ কাজ হিসেবেও উল্লেখ করেন এই অলরাউন্ডার। আমি বিশ্বাস করি আস্তে

আস্তে পৃথিবীর সব বৃদ্ধাশ্রম বন্ধ হয়ে যাবে। বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা সবচেয়ে নিকৃষ্ট একটি কাজ। একজন সফল ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মাহতাব। বাবা মা;রা যাওয়ার পর তার মা একা হাতেই তাকে মানুষ করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ব্যবসা শুরু করেন তিনি। আজ তিনি এক মস্ত বড় ব্যবসায়ী। তিনিও তার মায়ের সেবা যত্ন কর গেছেন মায়ের মৃ;ত্যুর আগ অবব্দি তিনি তার সেবা যত্ন করে গেছেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তার মা ছিলেন বিছানাসহ্যা। তার মল-মূত্র নিজ হাতে শ্রেষ্ঠ সন্তানের ন্যায় পরিষ্কার করেছেন মাহতাব। তিনি জানান, মায়ের জন্য কতটুকু করতে পরেছি তা তিনি জানেন না। তবে নিজের অবস্থান দেখে ক্রমশ তিনি উপলব্ধি করেছেন একমাত্র মায়ের দোয়ার কারণেই এসব সম্ভব হয়েছে।

স্ত্রী-সন্তান ও দুনিয়ার মোহে পড়ে বর্তমানে অনেকেই মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। যা মোটেও ঠিক নয়। এখনো সময় আছে তাদের কাছে মাফ চান। পিতা-মাতা সন্তানের জন্য এক মহান আশীর্বাদ। পৃথিবীর সমস্ত সফলতা একমাত্র মায়ের দোয়ার বদৌলতেই আসতে পারে। সময় থাকতে মায়ের সেবা করে দোয়া আদায় করে নিন। কর্তব্য পালনের মাধ্যমে মধুর সম্পর্ক তৈরি করুন। মাতৃ সেবা করার মাধ্যমে পরকালে জান্নাতের পথেও প্রবেশযোগ্য হবে।

ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের কাছে তার মায়ের চেয়ে আপন আর কেউ নেই। শুধু মানুষ কেন? পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীই তার মায়ের কাছে ঋণী। সে ঋণ শোধ করার কোনো উপকরণ আল্লাহপাক দুনিয়ায় সৃষ্টি করেননি।

ইসলাম মায়ের মর্যাদাকে মহিমান্বিত করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ
করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে; সুতরাং আমার শুকরিয়া ও তোমার মা-বাবার শুকরিয়া আদায় করো- (সুরা লুকমান : ১৪)।

একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কাছে কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার বেশি হকদার? তিনি বললেন, মা। লোকটি বলল, তারপর

কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা- (বোখারি-মুসলিম)।

হজ পালন : সুশৃঙ্খল-নিরাপদ দূরত্ব বজায়ের নজরকাড়া ছবিতে বিস্ময়

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হজ। ইসলাম ধর্মের লাখ লাখ অনুসারী এই ধর্মীয় বিধান পালনের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর জড়ো জন সৌদিতে। প্রতি বছর ২০ লাখের অধিক মুসলিম অংশ নেন হজে।

তবে মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে খুবই সীমিত পরিসরে পালন করা হচ্ছে হজ। এবার মাত্র এক হাজার নাগরিককে এই ধর্মীয় বিধান পালনের সুযোগ দিয়েছে সৌদি সরকার।

বুধবার থেকে শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিকতা। তবে বৈশ্বিক বিপর্যয় সৃষ্টিকারী মহামারি করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে রক্ষা পেতে এবার হজে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। হজের জন্য মনোনীতদের প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। হজ শুরুর আগেই দুই ধাপে কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হজে অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসারে এ বছর হজের সময় কাবা শরিফ স্পর্শ বা চুম্বন নিষিদ্ধ থাকবে। হজের প্রতিটি কাজে একজন থেকে অন্যজনের শারীরিক দূরত্ব থাকবে ১.৫ মিটার (পাঁচ ফুট)। তাওয়াফ, নামাজ, সাঈ প্রতিটি কাজেই এই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় ২ আগস্ট পর্যন্ত হাজিদের জন্য অবস্থান নির্ধারিত থাকবে।

হজ পালনের জন্য সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরপরই পবিত্র মসজিদুল হারাম (কাবা শরিফ) থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে মিনায় পৌঁছান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় ও মুখে মাস্ক পরে এবং নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব

বজায় রেখে সুশৃঙ্খলভাবে কাবা শরিফ তাওয়াফ করছেন হজযাত্রীরা। মাথায় রং-বেরঙের ছাতা। নির্দিষ্ট দূরত্বে চিহ্নিত রেখার ওপর দিয়ে তাওয়াফ করছেন তারা। অথচ অন্যান্য বছর প্রচণ্ড ভিড় থাকে এখানে। পবিত্র কাবা শরিফ স্পর্শ করার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় হজযাত্রীদের।

এবার করোনা সংক্রমণ এড়াতে বিদেশিদের হজে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে সৌদি সরকার। আর হজের জন্য যাদের (সৌদি আরবের বিদেশি বাসিন্দা ও সৌদি নাগরিক) মনোনীত করা হয়েছে তাদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। বুধবার সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রিভেনটিভ হেলথের সহকারী উপমন্ত্রী ড.

আব্দুল্লাহ আসিরি এবার হজ পালনের বিষয়ে বলেন, ‘হজযাত্রীরা যাতে করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র হজ পালন করতে পারেন, সেজন্য আমরা সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীসহ (পিপিই) সব ধরনের স্বাস্থ্যকর পণ্য তাদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ড. আসিরি বলেন, ‘হজের এমন কিছু বিধি-বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে যা আমরা চাইলেও তাদেরকে এক হওয়া থেকে পৃথক করতে পারি না। তাদেরকে এক জায়গায় হতে হয় (যেমন নামাজের সময়)। তাই আমরা জায়গাগুলো এমনভাবে প্রস্তুত করেছি যাতে করে হজযাত্রীরা নির্দিষ্ট দূরত্বে হজের বিধান পালন করতে পারেন এবং এসব জায়গায়

পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।’দীর্ঘ ৯০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সৌদি আরবের বাইরে থেকে হজযাত্রী আসা ছাড়া এত ছোট পরিসরে হজ পালিত হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সময় যুদ্ধ-বিগ্রহ, বন্যা ও অন্যান্য কারণে ৪০ বারের মতো হজ বন্ধ ছিল।

আরব আমিরাতের দুবাই কোরআন প্রতিযোগিতা জিতে বাংলাদেশি বালক পেল ৫৩ লাখ টাকা !

দুবাই কোরআন অ্যাওয়ার্ড জিতল বাংলাদেশি বালক হাফেজ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার দুবাইয়ের কালচারাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শাইখ আহমাদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।

২১ তম দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হলি কোরআন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার হিসেবে তরিকুলকে আড়াই লাখ দিরহাম দেয়া হয়। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৩ লাখ টাকা। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১০৩ জন প্রতিযোগীকে পিছনে পেলে প্রথম স্থান অর্জন করে ১৩ বছর বয়সী তরিকুল ইসলাম।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধর্ম ও আওকাফ মন্ত্রণালয় ‘শায়খা হিন্দ কিনতে মাককতুম

কোরআন প্রতিযোগিতা’ শিরোনামে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কুমিল্লার সন্তান হাফেজ তরিকুল ইসলাম যাত্রাবাড়ীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ছাত্র। তার বাবার নাম ইমাম।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১০৩ জন প্রতিযোগীকে পিছনে পেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ১৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি হাফেজ মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আল-কোরআন পুরস্কার সংস্থার প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম বু মুলহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, দুবাই ও উত্তর আমিরাত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এস বদিরুজ্জামান, কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর এএসএম জাকির হোসেন, আমিরাতের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন দেশে থেকে আগত অতিথি।

অন্যান্য বিজয়ীয়া হলেন, যথাক্রমে হুজাইফ সিদ্দিকী (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), মাদুর জোবে (গাম্বিয়া), আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ ইব্রাহিম ওবাইদাহ (সৌদি আরব), রশিদ ইবনে

আবদুল রহমান আলানি (তিউনিশিয়া), মোহনা আহমেদ (বাহরাইন), মোহাম্মদ হাদি আল-বশির (লিবিয়া), ওমর মাহমুদ সায়েদ আলী সৈয়দ আহমেদ রিফাই (কুয়েত),

মোহামমু আবেকা (মৌরিতানিয়া), হাবিনানা মিকিনি (রওয়ানা) এবং মোহামেদ ইসমাইল মোহাম্মদ নাগিব তাহা (মিশর)।

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দের ইবাদত হচ্ছে নামাজ

আজকে আপনাদের কাছে আমার আলোচনা হলো নামাজ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন।

নামাজ বা সালাত হল ইসলাম ধর্মের প্রধান ইবাদত। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত (নির্দিষ্ট নামাজের নির্দিষ্ট সময়) নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয় বা ফরজ করা হয়েছে। নামাজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। শাহাদাহ্‌ বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সালাত-এর আভিধানিক অর্থ দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা ইত্যাদি।

পারিভাষিক অর্থ : ‘শরিয়ত নির্দেশিত ক্রিয়া-পদ্ধতির মাধ্যমে আল্লাহর নিকট বান্দার ক্ষমা ভিক্ষা ও প্রার্থনা নিবেদনের শ্রেষ্ঠতম ইবাদতকে সালাত বলা হয়, যা তাকবিরে তাহরিমা দ্বারা শুরু হয় ও সালাম দ্বারা শেষ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল হল ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা

। (বোখারি) রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, বান্দার ইমান ও কুফরির মধ্যে পার্থক্য হল নামাজ ত্যাগ করা। (আহমদ)

সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে চল্লিশ দিন যাবৎ প্রথম তাকবিরের সাথে জামাতে নামাজ পড়বে, তার জন্য দু’টি পরওয়ানা লেখা হয়, একটি জাহান্নাম থেকে অপরটি মোনাফেকি থেকে মুক্তির। (তিরমিযী) রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে নামাজ পড়ার আশায় মসজিদের দিকে যায়, অথচ মসজিদে গিয়ে দেখে জামাত শেষ, তবু সে জামাতের সওয়াব পাবে। (আবু দাউদ)

রাসুলুল্লাহ (সা) আরও এরশাদ করেন, যতক্ষণ মানুষ নামাজের প্রতীক্ষায় থাকে, ততক্ষণ

নামাজের সওয়াব লাভ করতে থাকে। (বোখারি ও মুসলিম) মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সময়মতো নামাজ পড়ার তাওফিক দিন আল্লাহুম্মা আমিন।
সাবেক:হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, ইমাম ও খতিব কদমতলী মাজার জামে মসজিদ সিলেট।

দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, যেদিন রোজা আরম্ভ এবং ঈদ হবে !

দেশের আকাশে ১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার জিলহজ মাসের প্রথম আরম্ভ রোজা হবে এবং ৩১ জুলাই শেষ জিলহজ মাসের রোজা অর্থাৎ নবম রোজা হবে । আগামী ১ আগস্ট সারা দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কমিটি।

ধর্মসচিব নুরুল ইসলামের সভাপত‌িত্বে সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদসহ আলেম ওলামাসহ কমিটির সদস‌্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ তথ‌্য নিশ্চিত করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন।

এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ৩১ জুলাই। আর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই। যদিও করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার খুবই সীমীত পরিসরে হজ পালিত হবে।