এই প্র’থমবারের মত ইতালির সিটি নি’র্বাচনে প্র’তিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন বাংলাদেশি প্র’বাসী !

বাংলাদেশের অ’সংখ্য মানুষ এখন দেশের বাইরে পাড়ি জ’মিয়েছেন জী’বন এবং জী’বিকার কারনে। সেখানে অনেকেই আবার এমন কিছু করার চে’ষ্টা করেন যা বয়ে আনে দেশের জন্য গ’র্ব।

ক’ভিড এর এই স’ময়েই ই’তালির ভেনিস সিটি ক’র্পোরেশন নি’র্বাচনে এবার প্র’তিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন বাংলাদেশি। যা দেশটির মূল ধারার রা’জনীতিতে প্র’বাসী বাংলাদেশিদের উপ’স্থিতির আ’ভাস দিচ্ছে।

এদিকে ক’রোনা পরিস্থিতির অ’বনতিতে বি’স্মিত দেশের স্বা’স্থ্য ম[ন্ত্রণালয় আর ইতালি প্র’বাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট শ’ঙ্কা। গত কিছু দিন ক’রোনা ভা’ইরাসের সং’ক্রমণের ঊর্ধ্বগতি গেলেও গত সপ্তাহ থেকে প্রায় দ্বিগুণ বৃ’দ্ধি পেয়েছে। এতে শ’ঙ্কিত হয়ে পড়ছে দেশটির সাধারণ নাগরিকেরা।

তবে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে ক’রোনা ভা’ইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভটি এই মুহূর্তে ইতালিতে ফিরে আসার স’ম্ভাবনা ক্ষীণ। ভেনিস সিটি কর্পোরেশন এর নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে ইতালিতে উ’ত্তাপ।

জানা যায়, প্রথমবারের মত কোন রা’জনৈতিক জোট থেকে একজন বাংলাদেশী নি’র্বাচনী পোষ্টের জন্য লড়াই করবেন ভেনিস সিটি কর্পোরেশনে। সেই সঙ্গে মিউনিসিপালিটিতে রয়েছে ২ জন বাংলাদেশি নির্বাচনী প্র’তিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তারা প্রা’র্থিতা দা’খিল করেছেন।যা দেশটির ক্ষ’মতাশীল দলের জোট থেকে। ভেনিসজুড়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে নির্বাচনী আমেজ।

এদিকে এ বিষয়ে নি’র্বাচনী প্রার্থী বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলের কাছে দোয়া প্রা’র্থনা করছি যাতে আমি আগামীতে ভেনিসে বাংলাদেশি কমিউনিটিদের জন্য ভালো কিছু উ’পহার দিতে পারি।’
আরেকজন বলেন, ‘কমিউনিটির পক্ষ থেকে প্রথম এই পদে দাঁড়িয়েছি সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

অন্য একজন প্রার্থী বলেন, আশা করছি আপনারা আমাকে সা’পোর্ট করবেন। আমি আমার যতটুকু চেষ্টা ছিলো যে আমি আমার ন’মিনেশনটা নিয়ে আসি কিন্তু এখন আপনাদের সাহায্য চাই। এখন আপনাদের দায়িত্ব থাকবে সেটাকে সম্পূর্ণ করা।

এতে করে এবারে যদি কোন বাংলাদেশির জ’য় হয় ভেনিস সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাহলে ইতালির ইতিহাসে

বাংলাদেশিদের মূ’লধারার রা’জনীতিতে প্রবেশের পথ সুগম হবে। আর এটাই মনে করছেন ইতালি প্র’বাসী বাংলাদেশিরা।

ইতালিতে শিথিল করল বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা !

ঢাকায় করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্টের বিষয়টি ধরা পড়ার জেরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের ইতালি প্রবেশে ফ্লাইটের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা খানিকটা শিথিল করা হয়েছে। ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আইকাও জানিয়েছে,

বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশ থেকে ফ্লাইট এবং যাত্রী পরিবহনে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩১শে আগস্ট থেকে কমিয়ে ১০ই আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত করা হয়েছে।পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০ই আগস্টের আগে নতুন নোটিশ বা ডেটলাইনে না

এলে ১১ই আগস্ট থেকে নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে বাংলাদেশসহ অন্য দেশ থেকে ফ্লাইট এবং যাত্রী পরিবহন উন্মুক্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে ইতালিগামী যাত্রী পরিবহনে কাতার এয়ারওয়েজ আগামী ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে ইতালি কর্তৃপক্ষ বা আইকাওয়ের ১১ই জুনের নোটিশে বাংলাদেশসহ ১৭ দেশের নাগরিক বা ট্রানজিট যাত্রীর জন্য নিষেধাজ্ঞার ডেটলাইন ছিল ৩১শে আগস্ট।

অনৈতিক লেনদেনে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালসহ বিভিন্ন ল্যাব প্রদত্ত করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি যাত্রী পরিবহনে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিও করেছিল ইতালির কট্টরপন্থিরা। কিন্তু না, রোম অতটা কঠোর হয়নি। বাংলাদেশ মিশনসহ রোম ও মিলানের বাংলাদেশ কমিউনিটি বলছে,

ফ্লাইটের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার কারণে এবং করোনা পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার প্রেক্ষিতে গত প্রায় চার মাস ধরে বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশি।যারা ইতালিতে তাদের বাসস্থান বা কর্মস্থলে ফেরার প্রহর গুনছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ মিশনসহ নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশগুলোর তরফে ইতালির পররাষ্ট্র দপ্তরে সকাল-বিকাল যোগাযোগ-তদবির অব্যাহত রয়েছে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য।

রোমের বাংলাদেশ মিশন এবং মিলানের কনস্যুলেটের দায়িত্বশীল সূত্র মানবজমিনকে জানিয়েছে, করোনা টেস্টে বাংলাদেশিসহ নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের ৯০-৯৫ ভাগের নেগেটিভ রিপোর্ট আসার প্রেক্ষিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা খানিকটা শিথিল করে ১০ই আগস্টের মধ্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি আর না বাড়ার আশা করছে বাংলাদেশ মিশন।

স্মরণ করা যায়, গত ৬ই জুলাই ইতালির রোমে অবতরণ করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রীর কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার জেরে ঢাকা ফেরত ফ্লাইট ও যাত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দেশটি, যা এখনো বলবত আছে।

করোনা শনাক্ত হওয়া ওই যাত্রীদের কাছে ‘কোভিড-১৯ নেগেটিভ’ এবং ‘ভ্রমণের জন্য নিরাপদ’ মর্মে জাল কাগজপত্র ছিল। ৮ই জুলাই ১৫১ বাংলাদেশি যাত্রীকে দেশটিতে প্রবেশ করতে দেয়নি ইতালি।

বাংলাদেশ থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ট্রানজিট ফ্লাইটে ইতালি যাওয়া ওই যাত্রীদের পুনরায় ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কাতার এয়ারওয়েজের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ থেকে ইতালিগামী সব ফ্লাইট/যাত্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৮ই জুলাই থেকে শুরু করে ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত যেকোনো দেশের নাগরিক কিংবা যেকোনো দেশ হয়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কোনো ফ্লাইট ইতালিতে অবতরণের অনুমতি পাবে না। এর আগে জুনে বাংলাদেশ থেকে চীন, জাপান ও কোরিয়াতে বিশেষ ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

সর্বশেষ বাংলাদেশসহ ৭ দেশের নাগরিকের সরাসরি কুয়েতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

ইতালিতে পবিত্র ঈদুল আজহা যে দিন

ইতালিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে ৩১ জুলাই শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করবেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা।

ইতিমধ্যে ঈদকে সামনে রেখে দেশে ও প্রবাসে পশু কোরবানি করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন প্রবাসীরা।

রোমে কোরবানির অর্ডার নিচ্ছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। কেউ আবার ব্যক্তি উদ্যোগে কোরবানি দিচ্ছেন বলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান।

এরই মধ্যে ইতালির রোম, মিলান, ভেসেন্সা, কাতানিয়া, আনকোনা,রিমিনি, ভেনিস, নোভারা, ভারেজে, গালারাতে, লিগ্নিয়ানো, কোমো, লেক্কো, পিয়েলতেল্লো, ব্রেসিয়া, মোনছা, কারনাতে সহ মিলান লোম্বার্দীয়ার বিভিন্ন শহরে সংশ্লিষ্ট থানার (কস্তুরার) অনুমতি নিয়ে ঈদের জামায়াতের আয়োজন করবে

প্রবাসী মুসলিমরা।শান্তিপূর্ণভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

‘ইতালিয়ানরা বাংলাদেশিদের দেখলেই বলে ভাইরাস’

ইটালিতে ফেরা বাংলাদেশীদের মাধ্যমে নতুন করে ভাইরাস সং’ক্রমণ ছড়ানোয় সেখানে বসবাসরত প্রবাসী কমিউনিটি এখন
বি’পাকে পড়ছেন। অনেকে কাজে যোগ দিতে পারছেন না৷ স্থানীয়দের কাছেও নানাভাবে তারা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।

চীনের পর করোনার সবচেয়ে মা’রাত্মক সং’ক্রমণটি ঘটে ইতালিতে৷ প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের প্রা’ণ কেড়ে নেয় ভাইরাসটি৷
আ’ক্রান্ত হন দুই লাখ ৪৩ হাজারের বেশি। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতোই ইতালিও এই পরিস্থিতিকে এখন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।

খুলছে ব্যবসা-বাণিজ্যের দুয়ার। জুনের পর থেকে তাই বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশী প্রবাসীরাও ফিরতে শুরু করেছিলেন তাদের কর্মস্থলে।

কিন্তু তাদের মাধ্যমে দেশটিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে নতুন করে ভাইরাসের সং’ক্রমণ ঘটে। এ কারণে গোটা ইতালিতেই বাংলাদেশীরা সংবাদ শিরোনাম আর আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হন।

পাভেল রহমান বহু বছর ধরেই ইতালির রোমে বসবাস করছেন। তিনি জানান, লকডাউনের সময় বাংলাদেশীরা এখানে তেমন একটা আ’ক্রান্ত হননি৷কিন্তু এখন পুরো পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ‘আগে আমরা ইতালিয়ানদের দেখে এড়িয়ে চলতাম৷ এখন তারা আমাদের এড়িয়ে চলে,’ বলেন তিনি।

অ’ভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশীরা অনেকে দেশ থেকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে ফিরেছেন, যা সঠিক ছিল না।
অনেকেই ফেরার পর কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মানেননি, যার কারণে এতটা সমালোচিত হচ্ছেন বাংলাদেশীরা। ভেনিসে বসবাসরত নীপা বলেন,

‘চার-পাঁচ মাস ঘরে বন্দি ছিলাম৷ পরিস্থিতির এখন অনেকটা উত্তরণ হয়েছে। কিন্তু ভু’য়া সার্টিফিকেট নিয়ে যারা এসেছে তাদের কারণে ইতালিতে আমরা বা’ঙালিরা এখন খুবই লজ্জায় রয়েছি।’

ভেনিসে বাংলা ভাষার একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল সৈয়দ কামরুল সরোয়ার। তিনিও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।
‘৩০ বছর ধরে আমি এখানে আছি৷ কিন্তু আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের কমিউনিটির অবস্থা শোচনীয়৷ ইতালিয়ানদের কাছে আমরা অনেক হেয় হয়েছি,’ বলেন সরোয়ার।

ভেনিসে প্রবাসীদের মধ্যে সফল একজন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী। তিনি সেখানে বাংলাদেশীদের একটি মসজিদেরও প্রধান।
তিনি বলেন, ‘লকডাউনের পর আমরা বলতে গেলে এখন করোনা-মুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম৷ এখন পর্যটন আসা শুরু হয়েছে।

কিন্তু এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিছু লোক আসলো। তাদের অনেকেই কোয়ারান্টিন মানেনি ৷ আমাদের ভাবমূর্তি এখানে অনেক ন’ষ্ট হয়ে গেছে।’তিনি জানান, নিজেদর দক্ষতা আর সততা দিয়ে ইতালিতে বাংলাদেশীরা অনেক সুনাম অর্জন করেছিলেন।

কিন্ত অল্প কয়েকজনের কারণে তা নষ্ট হয়ে গেছে। মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এখন ইতালিয়ানরা আমাদের দেখলেই বলে ভাইরাস৷ আমরা একটা হেরেজমেন্টের মধ্যে পড়ে গেছি।’

তার আ’শঙ্কা করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেটের জা’লিয়াতির কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে যে-কোনো সনদের ক্ষেত্রে ইতালি তথা ইউরোপে বিপাকে পড়তে হবে প্রবাসীদের।পুরো বিষয়টিতে শুধু ইমেজ সং’কটেই পড়েছেন প্রবাসীরা তা নয়। কাজের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।

যখন সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, তখন অনেকেই তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারছেন না।‘ইতালির অনেক বিখ্যাত রেস্টুরেন্টগুলোতে বাংলাদেশীরা কাজ করেন৷ তাদের সঙ্গে এখন স্থানীয়রা কাজ করতে চাচ্ছেন না৷ তাদেরকে এখন বাসায় থাকতে হচ্ছে।’ বলছিলেন পাভেল রহমান।

রোমে বসবাসরত আরেক কাপড়ের ব্যবসায়ী আহসানও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেরই কাজ নেই। কিছু কিছু কাজ শুরু হয়েছিল৷ কিন্ত বাংলাদেশীরা করোনা আ’ক্রান্ত হওয়ায় তারা আবার বি’পাকে পড়ছেন।’

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের কমিউনিটির সদস্যদের দায় যেমন দেখছেন, তেমনি দূতাবাস বা সরকারের কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব ছিল বলে মনে করেন প্রবাসীরা৷

বিশেষ করে যারা ফিরে এসেছিলেন তাদেরকে সচেতন করা, সেই সঙ্গে সঠিক তথ্য সরবরাহ করার কাজ ঠিকভাবে করা হয়নি৷ তবে সবার সঙ্গে মিলেই এখন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা৷ মোহাম্মদ আলী বলেন,

‘এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরা বাঙালি কমিউনিটিরা বৈঠক করছি৷ আগামীতে কনস্যুলারদের ডেকে বড় আকারে বৈঠক করবো৷পরবর্তীতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেই বিষয়ে আমরা কাজ করবো৷’ তার মতে, ভুল স্বীকার করে সরকার

থেকে যথাযথ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ইতালির সরকারের মধ্যে আস্থা ফেরে। উৎস : ডয়চে ভেলে

ইতালিতে প্রবল বর্ষ’ণে ভয়া’বহ বন্যা !

প্রবল বৃষ্টিতে দ’ক্ষিণ ইতালির সিসিলি প্রদে’শের রাজধানী পালের’মোতে ভয়া’বহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাত থেকে শুরু হয়ে বৃহস্প’তিবার (১৬ জুলাই) দু’পুর প’র্যন্ত টানা বৃ’ষ্টি হয়।

বৃ’ষ্টির পর স্থা’নীয় মেয়র জানান, ১৯৯০ সালের পর বৃহ’স্পতি’বার রাতে সর্ব’চ্চো বৃষ্টি’পাত রেক’র্ড করা হয়েছে।

এতে শহ’রের কেন্দ্র’স্থ’লের অনেক অংশ নিম’জ্জিত হয়ে প্রবল খর’স্রো’ত সৃষ্টি হয়; যা শত শত গা’ড়ীকে ভা’সিয়ে নিয়ে যায়।

এদিকে বন্যা’র সময় ডু’বে যাওয়ার আশ’ঙ্কায় অনু’সন্ধান চালি’য়ে যায় ফা’য়ার সার্ভিস ও ফায়ার ফাই’টার। প্র’ত্যক্ষদ’র্শীর বরাতে ইতা’লিয়ান গণমা’ধ্যম প্রাথ’মিকভাবে

জানিয়েছে, বন্যা’য় আ’ন্ডার’পাসে এক দম্পতি গা’ড়িতে আট’কা পড়ে। তবে, স্থানীয় পু’লি’শ জানায়, ওই অ’ঞ্চলে নিখোঁ’জদের কোন’ও খবর পায়নি।

এদিকে বন্যার কা’ণে মৃ’ত্যু বা গুরু’তর আ’হত হও’য়ার খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্প’তিবার ভো’রে দম’কলক’র্মীরা নি’শ্চিত করেছেন যে, তারা পানি বের করে দেওয়ার সময় আ’ন্ডার’পাসের লো’কদের সন্ধান চালান।

সামাজিক যো’গাযো’গমাধ্য’মে প্রকা’শিত ভিডি’ওতে দেখা গেছে, লোক’জন ব’র্ষার ঝ’ড়ের কবলে পড়ে তাদের নিম’জ্জিত যান’বাহন ছে’ড়ে দিয়ে পানিতে সাঁ’তার

কাটছিলেন। সেস’ময় রিসা’ইক্লিং বিন এবং অন্যা’ন্য জিনি’সপত্র বন্যা’র পানিতে ভেসে যেতে দেখা যায়।

গণমা’ধ্যমে শহ’রের মে’র অরল্যা’ন্ডো বলেন, এই ধরনে’র বৃষ্টি’পাতে শহ’রটির কোনও সতর্কতা ছি’ল না এবং নাগরিক সুর’ক্ষা সংস্থা এই অঞ্চ’লের জন্য কোনও আবহাওয়ার সতর্কতা জারিও করেনি।

মেয়’র আরও বলেন, যদি শহরটিতে আগাম সত’র্কতা জানা’নো হতো। তাহলে সাধারণ মানুষ ঝুঁকি’গুলি হ্রাস করতে পারতো।

পালেরমোতে বস’বাস করেন বেশ কয়েক হা’জার বাংলাদেশি। বাংলাদেশি কমিউনিটি ব্যক্তি’দের পক্ষ থেকে জা’নানো হয়েছে, কোন বাংলাদেশি আ’হত বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে গেল রাজশাহীর আম

এ মৌসুমে আমের প্রথম চালান রপ্তানি করা হচ্ছে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোববার( ১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তিনি লিখেছেন, রাজশাহীর আম’ রপ্তানি শুরু করলো North Bengal Agro Farm Ltd.

প্রথম চালান সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে আজ সন্ধ্যায়। ” শাহরিয়ার আলম আশা প্রকাশ করেন, প্রথম চালানের সব ঠিকঠাক থাকলে রপ্তানি অব্যাহত থাকবে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এইবছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনের ২০২১ এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে নর্থ বেঙ্গল এগ্রো ফার্ম। এইবছর ১০০ টন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা হয়তো সম্ভব হবে না।

তিনি আরও জানান, তবে সামনের বছরে রাজশাহীর নিজস্ব বা সরকারিভাবে স্থাপিত হবে ফলমূলের কোয়ারেন্টাইন এবং প্রক্রিয়াজাতকরন কেন্দ্র। যা আম বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীর ব্যবহার করতে পারবেন।

রাজশাহীর আমের সুনাম থাকায় দেশের বাইরেও চাহিদা আছে। বেশকয়েক বছর ধরে রপ্তানিও হচ্ছে। তবে রপ্তানি সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সরকারি সহায়তা পেলে আমের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বাগান মালিকরা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী’র বাসভবনের কাছ থেকে অ’স্ত্রসহ এক সে’না সদস্যকে গ্রে’ফতার

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বাসভবনের কাছ থেকে অ’স্ত্রসহ এক সে’না সদস্যকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর দিয়েছে।

কানাডা পু’লিশ এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার অটোয়ায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নর জেনারেলের বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় অ’স্ত্র নিয়ে অ’বৈধভাবে বাসায় প্রবেশ করেছিলেন সে’নাবাহিনীর ওই সে’নাসদস্য।

জানা যায়, গ্রে’ফতার ব্যক্তি এদিন ভোরে একটি গাড়ি ফট’ক ভেঙে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঢুকে পড়েন। গাড়িটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নর জেনারেলের সরকারি বাসভবনের দিকে যেতে থাকেন তিনি।

একপর্যায়ে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে পায়ে হেঁটে সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। তবে কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই তাকে আ’ট’কে দেয় টহল পু’লিশ।ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য অসৎ ছিল বলে মনে করছে পু’লিশ।

ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নর জেনারেল তাদের সরকারি বাসভবনে ছিলেন না বলে জানা গেছে।

গ্রে’ফতার হওয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পু’লিশ। ত’দন্ত শেষে স’ন্দেহভাজন ব্যক্তির বি’রুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

যে তিন দেশের নাগরিকদের আর কখনোই ঢু’কতে দেবে না ইউরোপ

ইউরোপে ফের চালু হচ্ছে যাতায়াত। পয়লা জুলাই থেকে ১৪টি ‘নিরাপদ’ রাষ্ট্রের নাগরিকেরা প্রবেশ করতে পারবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।এ তালিকা থেকে বাদ গেছেন মার্কিন, ব্রাজিল আর চীনের নাগরিকেরা। নিরাপদ দেশের তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, মরক্কো এবং দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে।

খবর বিবিসির কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ইইউ এই তালিকায় চীনকে অন্তর্ভূক্ত করবে, যদি চীনের সরকারও একই ভাবে ইউরোপীয় পর্যটকদের ভ্রমণে নি’ষেধা’জ্ঞা তুলে দেয়।ইউরোপের নাগরিকদের জন্য ইইউয়ের সীমান্ত ক’ড়াক’ড়ি তুলে নেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য ব্রেক্সিট চুক্তির আলোচনার অধীনে নতুন নিয়মে করা হয়েছে।৩১শে ডিসেম্বর ব্রেক্সিট হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হবার আগ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা ইউরোপের নাগরিকের সমান মর্যাদাই পাবেন। যে কারণে সাময়িক ভ্রমণ নি’ষেধা’জ্ঞার আওতায় পড়বেন না ব্রিটিশ নাগরিক

এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। নিরাপদ দেশের নতুন যে তালিকা করা হয়েছে সেটিতে পরে আরো পরিবর্তন আসতে পারে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ তালিকায় আছে আলজেরিয়া।অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জর্জিয়া, জাপান, মন্টেনিগ্রো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, রুয়ান্ডা, সার্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া এবং উরুগুয়ে। যুক্তরাজ্য এখন কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ‘এয়ার ব্রিজ’ পদ্ধতি আয়োজনের চেষ্টা করছে।এর মানে হচ্ছে ব্রিটিশ নাগরিকেরা ইউরোপের কোন দেশে গেলে যাতে তাকে ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে না হয়। আসন্ন গ্রীষ্মের ছুটি লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা করতে চাইছে যুক্তরাজ্য।

এর কারণ হচ্ছে ইউরোপের পর্যটন খাতের জন্য এই মৌসুমটি ব্যস্ততম, এ সময়ে লক্ষ লক্ষ লোক এ খাতে বিভিন্ন রকম কাজ করে। ইইউয়ের এই নিরাপদ রাষ্ট্রের তালিকাএবং এর যোগ্যতা সম্পর্কে মঙ্গলবার অর্থাৎ আজই পরের দিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইইউভুক্ত রাষ্ট্রের বেশিরভাগ অর্থাৎ অন্তত ৫৫ শতাংশ দেশ যাদের জনসংখ্যা ইউরোপের ৬৫ শতাংশের মত, তারা এই তালিকা অনুমোদন করেছে।কিন্তু এর মধ্যে স্পেনের মত দেশ যারা নিজেদের পর্যটন

শিল্প আগের মত অবস্থায় নিয়ে যেতে চায়, কিন্তু আবার কোভি’ড-১৯ এ ভ”য়াবহতার অন্যতম শিকার হবার কারণে তারা পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় এমন দেশও রয়েছে, যারা এখনো দ্বিধান্বিত।কিন্তু এ তালিকায় গ্রীস এবং পর্তুগালের মত দেশও রয়েছে এই তালিকায় যারা মূলত পর্যটনের আয়ে চলে, কিন্তু ভা”ইরাসের ভয়ে ভী”ত নয়।

এবার প্রবাসীদের ভিসা ও গ্রিনকার্ড স্থগিত করলেন ট্রাম্প

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এক লাখ ৭০ হাজার বিদেশি কর্মপ্রার্থীদের ভিসা এবং গ্রিনকার্ড স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই পদক্ষেপের ফলে মহামারীজনিত কারণে বেকার হয়ে পড়া এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। আপাতত চার ধরনের ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেগুলো হচ্ছে- এইচ১বি, এইচ ৪, এল১ এবং জি১ ভিসা।এ ছাড়া ভবিষ্যতে এইচ১বির ক্ষেত্রে লটারির চেয়ে যোগ্যতা মানে জোর দিতে বলা হয়েছে। মার্কিন অভিবাসন দফতরের পরিসংখ্যান জানায়, ২০১৯ অর্থবর্ষে ১ লাখ ৩৩ হাজার বিদেশিকে এইচ১বি ভিসার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এর বেশিরভাগই ভারত ও চীনের দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।এবার ভিসা ও গ্রিনকার্ডপ্রত্যাশী ছিলেন এক লাখ

৭০ হাজার। এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে।করোনাভাইরাসের মহামারীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প অভিবাসী আইন কঠিন করে তুলছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে,ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি প্রযুক্তিকর্মী, শীর্ষ নির্বাহী, কৃষি খাতের সহায়ক কর্মী ও গৃহকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের ভিসা ও গ্রিনকার্ড স্থগিত করা হয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ ৫ লাখ ২৫ হাজার লোকের চাকরিতে এর প্রভাব পড়বে।এই স্থগিতাদেশের ফলে এক লাখ ৭০ হাজার লোকের গ্রিনকার্ড

অনিশ্চয়তায় পড়ল। এসব বিদেশিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেতে এখন অপেক্ষা করতে হবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত। গত এপ্রিলে একবার এসব গ্রিনকার্ড স্থগিত করা হয়েছিল। সোমবার এ স্থগিতাদেশ আরও বাড়ানো হলো।

আমেরিকায় গড়ে উঠছে মুসলিম শহর, যেনো হিজাব নগরী

কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি। মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী। কি মধুর আযানের ধ্বনি!আহা… সেই সুর মুসলিম দেশগুলোত শোনা যায় প্রতিদিন পাঁচ বার কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে কল্পনার বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না। এই কল্পনার বিলাসিতাকেই বাস্তবে প্রতিফলিত করেছে আমেরিকার একটি শহরের মুসলিমরা।হ্যাঁ বলছিলাম বাফেলোর কথা,যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পশ্চিম নিউ ইয়র্কের সর্ববৃহত শহর। ইরি লেকের তীরে অবস্থিত বাফেলো সিটি কানাডা-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত জুড়ে বাণিজ্য ও ভ্রমণের জন্য একটি প্রধান গেটওয়ে।

নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরত্বের কানাডা সীমান্তের নায়াগ্রা ফলসের অদূরে এই নগরীর অবস্থান।অনেকদিনের ইচ্ছা ছিলো নায়াগ্রা ফলস ঘুরতে যাবো এবং বাফেলো শহরে কয়েকজন বাংলাদেশী আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে দেখা করবো।সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা যাত্রা করি বাফেলোর উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ ৮ ঘন্টা ড্রাইভ শেষে পৌঁছালাম ছবির মতো সুন্দর সাজানো গোছানো আয়তনে ৫২ বর্গমাইলের বাফেলো শহরে।প্রায় তিন লাখ লোকের শহর বাফেলো আরাম-আয়েশের কারণে অনেকের কাছে যাদুর আবার কারো নিকট শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত। বাফেলো সিটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ১৫ মিনিটের মতো সময় ব্যয় হয়। এর কারণ নিরিবিলি এ শহরে ট্রাফিক জ্যাম নেই বললেই চলে।জোহর নামাজ আদায় করলাম তাকওয়া মসজিদে।

পুরো লাল কার্পেট বিছানো মসজিদের সামনের দেয়ালে লাগানো বুক সেলফে কুরআন হাদিস আর ইসলামি বই থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।অবাক হলাম “জামে মসজিদ বাফেলো”তে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গিয়ে।বিশাল মসজিদের ভিতরের ডিজাইন আর চার্চের মতো গঠন দেখে। নামাজ শেষে কথা হলো মুসল্লি আনোয়ার হোসেনের সাথে তিনি বললেন,আল্লাহ খ্রিস্টানদের দিয়ে গির্জা বানিয়ে সেই গির্জায় মুসলমানদের নামাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
তার কথার অর্থ তখন পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে Muslim ummah of North America (MUNA) পরিচালিত বাইতুল আমান মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের শিক্ষক জনাব আব্দুল কাইয়ুম ভাইয়ের নিকট থেকে বিস্তারিত জানতে পারলাম। তিনি বলেন,এক সময় পুরো বাফেলো সিটি ছিলো- রিলিজিয়ন

নগরী। আগেকার লোকেরা ধর্মকর্ম বেশি পালন করতো। বর্তমানে তারা উল্টো পথে চলার কারণে গির্জায় লোকজন শূন্যের কোঠায়। তাই বাধ্য হয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষ গির্জাগুলো মুসলিমদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। মুসলমানরা চার্চগুলো কিনে মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামি সেন্টার বানাচ্ছে।তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, শহরটিকে বর্তমানে ২২/২৩ টি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। বাফেলোর ইস্ট সাইট এলাকায় জাকারিয়া মসজিদ ও মারকাজকে ঘিরেই মূলত বাংলাদেশিদের বসতি শুরু।আশেপাশে কয়েকশ’ বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও বার্মিজ মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর রয়েছে। এছাড়া ইয়েমিনি ও সোমালিয়ান প্রচুর মুসলমানের বাস এ মসজিদকে কেন্দ্র করে।প্রশস্ত রাস্তার দুপাশে নজরকাড়া দৃষ্টিনন্দন বাহারি ডিজাইনের বাড়ি আর সবুজে

ছায়া ঢাকা মাঠ শহরের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। এই নিরিবিলি শান্ত শহরে ভারতীয় এক ধার্মিক চিকিৎসক ২৫/২৬ বছর আগে জাকারিয়া দারুল উলুম মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।বর্তমানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী নিয়ে আমেরিকার সর্ববৃহৎ মাদ্রাসার খেতাব জিতে নিয়েছে।এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী হাফেজে কোরআন ও আলেম হচ্ছে। দুপুরের খাবারের জন্য খুঁজে পেলাম বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট আল-মদিনা,কথা হলো মালিক এন প্রধানের সাথে তিনি বললেন, নিউইয়র্ক থেকে তুলনামূলক বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ কম এবং ইসলামি পরিবেশ থাকায় বসবাসের সুবিধার্থে নতুন অভিবাসী মুসলিমরা এ শহরে ভিড় করছেন। এভাবে দ্রুতগতিতে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাফেলোর মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।শহরটি একসময় ছিলো- কালোদের দখলে।

এখন ধীরে ধীরে চলে আসছে বাংলাদেশিসহ মুসলিমদের দখলে।এ পর্যন্ত খ্রীষ্টান্দের বড় বড় গির্জা মসজিদে রূপ নেওয়ার পাশাপাশি শহরের উপকেন্দ্রে বড় একটি জেলখানা কিনে বিশাল মাদরাসা বানানো হয়েছে।রেস্টুরেন্টের মালিকের সাথে কথা বলার ফাকে চিকেন মাছালা, গরুর গোস্তের ঝালফ্রাই , খিচুড়ি আর বিরিয়ানি একের পর এক পেটের মধ্যে চালানের মাধ্যমে নিমিষেই শেষ করি।চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শুনছিলাম বাফেলোর একমাত্র বাংলা মাসিক পত্রিকার সাংবাদিকের কথা।তিনি বললেন, শহরটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা অন্য যে কোনো শহরের তুলনায় বেশ উন্নত। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ধর্মবর্ন নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে বসবাস করেন। অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলেও এসবই সত্য।দুই দিন বাফেলো ঘুরে চোখে পড়ার মতো ঘটনা হলো এ শহরে

মুসলিম নারী ও মেয়েরা হিজাব মাথায় চলাফেরা করেন। হিজাবের আধিক্যের কারণে এ শহরকে হিজাবের নগরীও বলা যায়।এখানে রয়েছে অনেক মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামিক সেন্টার যার ফলে বিরাজ করছে ইসলামি পরিবেশ।আজানের সময় একসঙ্গে অনেকগুলো মসজিদ থেকে ভেসে আসে সুমধুর আজানের সুর। মনে হবে আপনি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো শহরে আছেন।বাফেলোর নাগরিক মুহাম্মদ কাউছার বলেন,শহরের ইসলামি পরিবেশ, আইন-কানুনের যথাযথ ব্যবহারের ফলে সন্ত্রাসসহ নানাবিধ ভয়ভীতি থেকে মুক্ত এ শহর এবং পুরো আমেরিকার মধ্যে বাফেলো হচ্ছে- মুসলমানদের বসবাসের জন্য সর্বসেরা শহর।-নয়া দিগন্ত জবস।