টাকার কুমির স্বাস্থ্যের গাড়িচালক

মাথায় সাদা টুপি। মুখে পাকা লম্বা দাড়ি। ৬৩ বছর বয়সী আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তার

কাজ কর্মকর্তার গাড়ি চালানো। কিন্তু গাড়ি চালানো তো দূরের কথা খোদ মহাপরিচালকের গাড়ি ব্যবহার করতেন নিজে।

ওই গাড়ি চালাতেন অধিদপ্তরের আরেক চালক। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত ওই গাড়িটি কব্জায় ছিল গাড়ি চালক মালেকের। রোববার অভিযান চালিয়ে কোটিপতি এ গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

তিনি স্বাস্থ্যে সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদের গাড়ি চালাতেন। প্রভাবশালী এই গাড়ি চালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম করে শ’ শ’ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। রাজধানীতে গড়েছেন বিলাসবহুল বেশ

কয়েকটি বাড়ি। খামার গড়েছেন নিজের নামে। ব্যাংকে জমা করেছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই অবাক হয়েছেন তার সম্পদের তথ্য পেয়ে।

মালেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। দেখতে সাদামাটা ভদ্রবেশী মনে হলেও বাস্তবে তিনি ভয়ঙ্কর এক ব্যক্তি। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা থেকে শুরু করে আছে

জাল টাকার ব্যবসা। অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, অর্থ আদায় সবই করেন। গাড়ি চালক পেশার আড়ালে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড নেই যা তিনি করেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

মহাপরিচালকের গাড়িসহ আরো তিনটি প্রকল্পের গাড়ি নিজের কব্জায় রেখেছিলেন। অধিদপ্তরের নিয়োগ-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ক্রয়, টেন্ডারবাজি ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া অধিদপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ করতেন। শুধু

তাই নয়, নিজ এলাকায় মালেক ছিলেন মূর্তিমান এক আতঙ্ক। অবৈধ অস্ত্র ও টাকার গরম দেখিয়ে তিনি ত্রাসের রাজত্ব

সৃষ্টি করেছিলেন। প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শক্তির মহড়া দিতেন। তার চক্রে ছিল একাধিক লোক। যাদেরকে নেতৃত্ব দিতেন মালেক নিজেই। তাদের হুমকি-ধমকিতে এলাকার লোকজন তটস্থ থাকতো। ভয়ে কারো মুখ খোলার সাহস ছিল না।

কেউ মুখ খুললে তাকে নানাভাবে হয়রানি করতেন। তার ওপর নেমে আসতো খড়গ। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে হয়েছেন টাকার কুমির। বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট- সবই আছে তার। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন, অবৈধ ব্যবসা, সম্পদ অর্জনের এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতেন। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রাথমিক তদন্ত করে এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অবশেষে আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল ভোরে ঢাকার

অদূরে তুরাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ টাকার জালনোট, ১টি ল্যাপটপ ও ১টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের কাছে অভিযোগ ছিল তুরাগ এলাকায় আব্দুল মালেক অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার এলাকায় সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন। এমন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে

তুরাগের কামারপাড়াস্থ বামনের টেক এলাকার ৪২ নম্বর হাজি কমপ্লেক্সে নামের সাততলা ভবনের তৃতীয় তলা থেকে তাকে

গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আব্দুল মালেকের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানিয়েছে, মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের একজন চালক। ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে চালক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত। একজন গাড়ি চালক হলেও অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই ছিল তার নিয়ন্ত্রণে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যাবতীয় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতো মালেক। টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দের

লোকদের টেন্ডার পাইয়ে দিতেন। প্রতিটা টেন্ডারেই তিনি ভাগ বসাতেন। অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য সরঞ্জাম থেকে শুরু করে

অফিসিয়াল অন্যান্য কেনাকাটায়ও তার দৌরাত্ম্য ছিল। নিয়োগ বাণিজ্যেও একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে চাকরি পাইয়ে দিতেন। দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডারবাজি, কেনাকেটা, নিয়োগ-বাণিজ্য করে তিনি কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। তার আধিপত্যের কাছে খোদ অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তি থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পর্যন্ত তটস্থ হয়ে

থাকতেন। গাড়ি চালক হয়েও তিনি কোনো গাড়ি চালাতেন না। উল্টো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্ধারিত কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি দিয়ে নিজে চলাফেরা করতেন। সরকারি গাড়ি ভাড়ায় খাটাতেন। অধিদপ্তরের তিনটি প্রকল্পের গাড়ি তার দখলে ছিল। এসব গাড়ি মাসিক ভাড়ায় অন্যত্র খাটাতেন। এই তিনটি গাড়ি ছিল যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার তিনজন প্রকল্প

পরিচালকের জন্য বরাদ্দ। অভিযোগ আছে মালেক সব সময় অস্ত্র বহন করতেন। বিষয়টি কর্মস্থলের অনেকেই জানতেন। কাজও হাসিল করতেন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে। শুধু অধিদপ্তর নয়, তার লম্বা হাত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অভিযোগ আছে মালেকের খুঁটির জোর বেশ শক্ত ছিল।

র‌্যাবের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুঘল ছিল আব্দুল মালেক। স্বাস্থ্য সেক্টরে আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা করে আসছেন। এর বাইরে অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বিলাসবহুল জীবন ছিল। চলাফিরা করতেন

সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে। চালক হিসেবে তার যে আয় সেটি ব্যয় ও সম্পদের সঙ্গে অসামঞ্জস্য ছিল। প্রাথমিক

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুল মালেকের স্ত্রীর নামে দক্ষিণ কামারপাড়া এলাকায় দু’টি সাততলা ভবন, বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২৪টি ফ্ল্যাট, ১৫ কাঠা জমিতে একটি ডেইরি ফার্ম, হাতিরপুলে সাড়ে চার কাঠা জমিতে ১০ তলা ভবন রয়েছে।

নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে তার রয়েছে কোটি কোটি টাকা। লাভজনক-অলাভজনক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে তার আরো বাড়ি, জমি থাকতে পারে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার মানবজমিনকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির প্রাডো গাড়ি গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তিনি ব্যবহার করেছেন। এছাড়া তিনটি প্রকল্পের যুগ্ম সচিব

পদমর্যাদার তিনটি গাড়ি তার দখলে ছিল। অধিদপ্তরের ক্রয়, নিয়োগ-বাণিজ্য টেন্ডার-বাণিজ্য ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা

তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। একাধিক বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নানা তথ্য আমাদেরকে দিচ্ছেন। সূত্র: মানবজমিন।

এরদোয়ানকে ‘সৌদির আসনে’ বসাতে চান ইমরান খান ও শি জিনপিং !

ইসলামি বিশ্বের নেতৃত্বের ভূমিকা পাওয়ার জন্য গেল কয়েক বছর ধরে তীব্র লড়াই করে যাচ্ছে তুরস্ক। আয়া সোফিয়াকে
পুনরায় মসজিদে ফেরানোর পরে আঙ্কারার ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা চুরমার হয়ে গেছে। বরং আয়া সোফিয়াকে মসজিদে ফিরিয়ে তুরস্ক ইসলামপন্থীদের দিকে আরো ঝুঁকছে।

তুরস্কের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আঙ্কারার পুরোনা মিত্র পাকিস্তান রয়েছে তার সঙ্গে। তুরস্কের পাশাপাশি বৈশ্বিক পরাশক্তি চীনের সঙ্গেও ইসলামাবাদের রয়েছে শক্তিশালী সম্পর্ক।

১৯১৮ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত ভারতে চলামান খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে তুরস্ক-পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান সম্পর্কের সূত্রপাত হয়।আন্দোলনের লক্ষ্যে ছিল গ্রেট ব্রিটেনের আগ্রাসন থেকে অটোমান সামরাজ্যের অখণ্ডতা এবং ইসলামি খেলাফত রক্ষা করা।

পাশাপাশি স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু-মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ করা। উভয়ের শত্রু ইংরেজ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে।১৯১৯ সালে অটোমান সামরাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শাওকাত আলী, মাওলানা মোহাম্মদ আলী জৌহর, হাকিম আজমল খান এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

সুন্নি মুসলমানদের এ নেতৃত্বকে কার্যকর রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করা হতো। ইশতিহারে খেলাফত আন্দোলন ব্রিটিশ সামরাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানায়। যারা সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার

মানুষকে এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন কৃষক, কারিগর, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোক্তা, মসজিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক সবাই ।

তাদের এ বিদ্রোহ ছিল উপনিবেশ ও সামরাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। পরে ১৯২২ সালে মুস্তফা কামাল আতার্তুকের অধীনে তুরস্ক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রূপান্ত হয়। পরে খেলাফত আন্দোলন সাম্প্রদায়িক বিচ্ছিন্নতাবাদের পক্ষে অভিজাত সংগঠনে পরিণত হয়।

তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধে কামালপন্থীদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানরা। সেই সূত্র ধরে ১৯৪৭ সালে সদ্য গঠিত পাকিস্তানের সঙ্গে চটজলদি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি সম্পর্কও ছিল। পাকিস্তানের স্থপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আঙ্কারার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উভয়ে একে অপরকে অব্যাহতভাবে সমর্থ দিয়েছে। যা এখনো চলমান। ১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে আক্রমণের জন্য একমাত্র পাকিস্তান মিত্র তুরস্ককে সমর্থন দিয়েছিল।

২০০৩ সালে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ বলেছিলেন, নর্দান আয়ারল্যান্ড বিষয়ে আঙ্কারা যে নীতি নির্ধারণ করবে, আমরা বলছি, পাকিস্তান তাতে সন্দেহাতীতভাবে

সমর্থন দেবে। আমরা শতভাগ তুরস্ককে সমর্থন করবো। প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ও ক্ষমতায় থাকাকালীন একই বাক্যের পুনরাবৃত্তি করেছিলেন যে সাইপ্রাস ইস্যুতে তুরস্কের সংগ্রামে আমরা পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবো।

১৯৯০ সালে কারণবশত দু’পক্ষের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তখন নর্দান জোটকে সমর্থন করে তুরস্ক। তালেবানের পক্ষে অবস্থান নেয় পাকিস্তান। তা সত্ত্বেও ২০০১ সালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আহমেদ সিজার কাশ্মীর সংঘাতের সময় পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন।

২০০৩ সালে রিসেপ তাইপ এরদোয়ান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা তাদের আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে পূর্ণ সমর্থন দেবে তুরস্ক। অবশ্যই সংকটের দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান কাশ্মীর ইস্যুতে সরাসরি পাকিস্তান এবং কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের সমর্থন দেয়ায় ভারত-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি হয়। এর মাধ্যমে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে পাকিস্তানের চলা দ্বন্দ্বে ইসলামাবাদকে সহায়তা করে আঙ্কারা।

ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বক্তব্যে কাশ্মীর ইস্যুতে কারো পক্ষ নিয়ে কথা বলেননি। তিনি বলেন, তুরস্ক এবং তুর্কি জনগণ কাশ্মীরীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। কাশ্মীরীরা নানা ধরনের নির্যাতন নিপীড়;নের শি;কার হচ্ছেন। কাশ্মীর রাজ্যের

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দিনে দিনে সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। কাশ্মীর সংকট নিরসনে কাশ্মীরী ভাই-বোনদের ইচ্ছা অনুযায়ী জাতিসংঘের রেজ্যুলেশনের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ভারতের আলোচনার পক্ষে তুরস্ক।

তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সামরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কও বিদ্যমান। স্নায়ুযুদ্ধে সময়ে উভয়ে সেন্ট্রো মিলিটারি-পলিটিক্যাল ব্লকের সদস্য ছিল। ১৯৮৮ সালে সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করার জন্য মিলিটারি এডুকেশন অ্যান্ড ডিফেন্স ইন্ড্রাস্টি প্রতিষ্ঠা করে। ২০০৩ সালে দু’পক্ষের মধ্যে গঠিত হয় হায়ার মিলিটারি ডায়ালগ অর্গানাইজেশন।

নানা সময়ে পাকিস্তান এবং তুরস্ক যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। ১৯৯০ এর শুরুতে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের আধুনিকায়ন হয় তুরস্কে। এরই ধারবাহিকতায় গেলো দু’বছরে চীনের পরই পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সবেচেয়ে বেশি অস্ত্র সরবরাহ করেছে তুরস্ক।

২০১৮ সালে দেড়শ’ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে তুরস্ক থেকে ৩০টি টি-১২৯ তুর্কি হেলিকপ্টার ক্রয় করে পাকিস্তান।২০১৯ সালে ১১ অক্টোবরে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের অপারেশন ‘পিস স্প্রিং’কে সমর্থন জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ইমরান খান। এটা কোনোভাবেই কাকতালীয় নয়। এর আগে কুর্দি ওয়ার্কার পার্টির বিরুদ্ধে অভিযানেও আঙ্কারাকে সমর্থন দেয় ইসলামাবাদ।

শিক্ষা এবং সংস্কৃতিতেও দু’পক্ষের উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে। ২০০৩ সালে ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং আঙ্কারার সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যে শিক্ষা এবং বিজ্ঞান বিষয়ে উন্নতির লক্ষ্যে একটি চুক্তি সই হয়।

ফেতুল্লাহ গিলনের সমর্থককর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পরও তুর্কি ভাষা ফাউন্ডেশনের অধীনে পাকিস্তানে তুর্কি ভাষার স্কুল ও কলেজে একটি প্রকল্প চালু আছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে উর্দু ও দারিতে অনুবাদ হওয়া তুর্কি নাটকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

পরস্পরের নাগরিকরা একে অপরের দেশে ভ্রমণের মাধ্যমে নিজেদের পর্যটন শিল্পও সক্রিয়ভাবে বিকাশিত করছে ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা।আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতারও চেষ্টা করেছে তুরস্ক। তুরস্কের আমন্ত্রণে ২০০৭ সালের ২৯ এপ্রিল

আঙ্কারায় আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এবং প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের ফলাফলের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা ঘোষণা করে আঙ্কারা। অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস তৈরিতে একটি জয়েন্ট গ্রুপও তৈরি করা হয়।

ওই বছর জয়েন্ট গ্রুপের প্রথম সম্মেলন হয় আঙ্কারায়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় বৈঠকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল উপস্থিত ছিলেন। ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল তাদের উপস্থিতিতেই তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালে জয়েন্ট গ্রুপের অষ্টম বৈঠক হয়।

একইসময়ে ইস্তাম্বুল প্রসেস নামে ২০১১ সালে তুরস্ক আরেকটি প্রচেষ্টা হাতে নেয়। কিন্তু এসব সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন এবং দু’পক্ষের সম্পর্ক জোরদার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা কোনওভাবেই আফগান-তুর্কি এবং পাকিস্তান-তুর্কি সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারেনি। বিশেষত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থায় আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতা দিচ্ছে।

হানাফি মাজহাব এবং সন্নি মতাদর্শে আফগান ইস্যুতে একাট্টা তুরস্ক এবং পাকিস্তান। ১৯৯৭ সালে তুরস্কের পদক্ষেপে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক জি-৮ এ পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

পাকিস্তান-তুর্কি সম্পর্কের মূল জটিলতা হল নিম্ন স্তরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক। ২০০৪ সালে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য হয়েচিল মাত্র ১শ’ ৬০ মিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে ৯শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বড় সমস্যা হল উইঘুর ইস্যু। জিনজিয়ানে যারা চীনা কমিউনিস্ট সরকার দ্বারা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

চীনের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কের কারণে, পাকিস্তান পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামী আন্দোলনের বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসবাদী হিসাবে অভিহিত করে। আর তুরস্ক নিয়মিত জিনজিয়ানের অশোভন নীতির জন্য চীনের সমালোচনা করে আসছে।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক উন্নতির ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান উইঘুর ইস্যুতে তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেন।

এসবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে তুর্কি রুশ সম্পর্ক।

পরিশেষে বলা যায় চীন এবং পাকিস্তানের সহায়তায় সৌদি আরবকে সরিয়ে ইসলামি বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে আরোহন করতে চান তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান।

ইউরো এশিয়ান টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন ফাইয়াজ আহমেদ।

অবশেষে সাউদিয়ার ঢাকা থেকে ফ্লাইট বাতিল করল !

সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়া হলেও সাউদিয়া এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি বাতিল করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি না দেয়ায় বেবিচক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।বেবিচক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, করোনা মহামারীতে নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত থাকায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক আটকে পড়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতি সপ্তাহে দুটিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়েছিল সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস।

সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় পুনরায় ফ্লাইট চালু করবে বলে জানায় সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস।প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায় সাউদিয়া এয়ারলাইনস। কিন্তু সৌদি আরবে আবেদন করেও

ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়নি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ কারণে সৌদি আরবের এয়ারলাইনসকেও ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি বাতিল করছে বেবিচক।

সৌদিতে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধান চাষ

ধান চাষের কথা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কাদা-মাটিতে মাখামাখি ক্ষেতের ছবি। কৃষকরা নিপুন হাতে ধানের
চারা রোপন করেন। তবে এই কাজটি যদি সৌদি আরবের মতো মরুভূমির দেশে হয় তাহলে একটু অবাক হতেই হয়।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল আল আহসা হাসাভি নামের লাল চালের জন্য পরিচিত। এই ধান চাষ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল। আল আহসার কৃষকরা প্রতি বছর গ্রীষ্মের পরে বিশেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ধানের চারা রোপন করেন। এর আগে তারা মাটি প্রস্তুত শুরু করেন। সৌদিতে ধান চাষের ছবিসহ ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

বিশ্বের বিরল এই লাল চালের ধানের জাত পানির অভাবের কারণে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। পুরোপুরি পানিতে এই ধানের চারা রোপন করতে হয়। সপ্তাহে পাঁচদিনে হাসাভি ধানের গাছে পানি দিতে হয়।

এটি রোপণ করার সময় প্রচুর পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। যদিও এর শেকড় দীর্ঘ সময় পানি ধরে রাখতে পারে। ধানের ক্ষেতে সৌদি শিশুরা : শর্করা, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ এই লাল চাল পুষ্টিগুণে ভরা। বাত এবং হাড়ের অসুস্থতা নিরাময়ে এটি কার্যকরী হাসাভী ধান এমন

একটি ফসল যা গরম অঞ্চলে জন্মে। কারণ এটি চাষে সর্বোচ্চ ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাপমাত্রা কম হলে এটি বৃদ্ধিতে বাধা পায় এবং সম্পূর্ণ বেড়ে উঠতে পারে না।

সৌদি কৃষক আব্দুল হাদি আল সালমান বলেন, আমরা এই চাল উৎপাদন করি। নিজেরা খাই এবং অন্যদের খাওয়াই। কিছু বিক্রিও করি। এগুলো আমাদের কাছে স্বর্ণের মতো।

আরব আমিরাতে শারজায় ২০০কি.মি বেগে গাড়ি চালক গ্রেফতার !ওভার স্পীডের জন্য জানালেন কঠোর আইন !

আরব আমিরাতের শারজাহ হাইওয়েতে 200 কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানো এক গাড়ি চালককে গ্রে; প্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে । সন্দেহজনক বেপরোয়া কৃতিত্বের একটি ভিডিও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে।

খোর ফক্কানের হাইওয়েতে সন্দেহভাজনকে দ্রুত গতিতে দেখানো ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। পুলিশ ভিডিওটি যাচাই করার পরে, তারা সন্দেহভাজনকে সনাক্ত করে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ড্রাইভারদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং রাস্তাগুলির গতির সীমাটি সম্মানের আহ্বান জানিয়েছে। শারজাহ পুলিশ জানিয়েছে যে এই বছর রাডার এ ২৭৮ কিলোমিটার বেগে চলমান একটি গাড়ি ধরেছিল। এটি ছিল ২০২০ সালের প্রথম আট মাসে 200 কিলোমিটার গতি ছাড়িয়ে আসা গাড়িচালকের মধ্যে সর্বোচ্চু 274 কিলোমিটার ।

শারজাহ পুলিশ ট্র্যাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মেজর মিশাল বিন খাদিম হুঁ; শিয়ারি দিয়েছিলেন যে গাড়ীর সর্বোচ্চ স্পিড সর্বোচ্চ গতির সীমা ৮০ কিলোমিটার অতিক্রম করলে ৩ হাজার দিরহাম জরিমানা,

২৩ টি ব্ল্যাক পয়েন্ট এবং ৬০দিনের জন্য যানবাহন বাজেয়াপ্তকরণ করা হবে। সর্বোচ্চ গতি সীমা ৬০ কিলোমিটার অতিক্রম করার জন্য, 30 দিনের জন্য গাড়ি বাজেয়াপ্তকরণ সহ 2,000 দিরহাম জরিমানা এবং 12 কালো পয়েন্ট দেওয়া হবে ।

বিয়ে করে দোয়া চাইলেন ৭৫ বছরের হাতেম আলী

হাতেম আলী ও জহুরন নেছা দম্পতির বিয়ের বিষয় এলাকার পাড়া মহল্লা, চায়ের দোকানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে

পরিণত হয়েছে। সবপক্ষের সম্মতি থাকায় শনিবার রাতে প্রবাসী জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ১০ হাজার

টাকা কাবিনে (নগদ আদায়) বিয়ে হয় তাদের। পাত্র ও পাত্রী পক্ষের ১৫০ জনের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রেখে পাঁচ বছর আগে মা;রা গেছেন স্ত্রী। সন্তানদের বিয়ে হয়েছে। মেয়েরা শ্বশুর বাড়িতে

আর ছেলে নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটছিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গাড়ামারা গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাতেম আলীর।

এ অবস্থায় আবারো বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন তিনি। স্বামী পরিত্যক্তা ৫০ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে শনিবার রাতে বিয়ে হয় তার। আয়োজনও ছিল বেশ। ১৫০ বর ও কনে যাত্রী নিয়ে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

ঝিনাইদহ শহরের নতুন কোর্টপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি তার ঘর নির্মাণের কাজ করাচ্ছিলেন। হাতেম আলীর বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছে এমন কথা শোনার পর খোঁজ পান সদর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের জহুরন নেছার। এক সপ্তাহ ধরে চলে পাত্র ও পাত্রীর দেখাশোনা।

এ ব্যাপারে হাতেম আলী বলেন, এ বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহর রহমতে একজন জীবনসঙ্গী পেলাম। আল্লাহ যেন আমাদের সুখী রাখেন। কিছুদিন পর আমার স্ত্রীকে আমি ১০ কাঠা জমি লিখে দেব। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

ভাতিজির সন্তানের ডি’এনএর সাথে মিলে গেলো চাচার ডিএনএ

ভা’তিজির স’ন্তানের ডিএনএ পরী’ক্ষায় চাচার স’ম্পৃক্ততা-ধ’র্ষিতা ভা’তিজির গ’র্ভে জ’ন্ম নে’ওয়া স’ন্তানের ডি’এনএ

প’রীক্ষা ক’রে চা’চার স’ম্পৃক্ততা পা’ওয়া গে’ছে। না’ঙ্গলকোটের বা’ঙ্গড্ডা ই’উনিয়নের হে’সিয়ারা পূ’র্বপাড়া গ্রা’মে এ ঘ’টনা ঘ’টেছে। ধ’র্ষক চাচা সো’হেল (৪৫) হেসিয়ারা গ্রা’মের আ’বদুল ম’ন্নানের

ছে’লে। এ ঘট’নায় ব্যা’পক আ’লোড়ন সৃ’ষ্টি হ’য়েছে। এ মা’মলার ত’দন্তকারী ক’র্মকর্তা উপ-প’রিদর্শক (এস.আই) আখতার হো’সেন ডিএ’নএ পরী’ক্ষার ফ’লাফলে ধ’র্ষক চা’চা সো’হেলের সম্পৃ’ক্ততা পাও’য়ার বিষ’য়টি নি’শ্চিত ক’রে দ্রু’ত মা’মলার চা’র্জশীট দ্রু’ত দে’য়া হ’বে ব’লে জা’নিয়েছেন।

জানা যায়, না’ঙ্গলকোটের বা’ঙ্গড্ডা ইউনিয়নের হে’সিয়ারা পূর্বপাড়ার আ’পন চা’চা সো’হেল (৪৫) তার কি’শোরী

ভা’তিজিকে মে’রে ফে’লার ভ’য় দে’খিয়ে (১৪) ধ’র্ষণের পর আ’ট মা’সের অ’ন্তঃসত্ত্বা হও’য়ার ঘ’টনায় না’ঙ্গলকোট থা’না পুলি’শের উ’দ্যোগে গত ১৩ জু’ন কি’শোরীর বা’বা তা’র আ’পন ভা’ই

ধ’র্ষক সো’হেলকে (৪৫) আ’সামী ক’রে মা’মলা ক’রেন। প’রদিন ১৪ জু’ন পু’লিশ আ’সামি ধ’র্ষক সো’হেলকে গ্রে’ফতার ক’রে আ’দালতের মা’ধ্যমে জে’লহাজতে প্রে’রণ করে। ওই ‘কিশোরী তা’র চা’চা সো’হেলকে দা’য়ী ক’রে আ’দালতে স্বী’কারোক্তিমূ’লক জবা’নবন্দি প্র’দান ক’রেন।

পরে কু’মিল্লা মে’ডিকেল কলে’জ হা’সপাতালে কি’শোরীর ডা’ক্তারী প’রীক্ষা স’ম্পন্ন হ’য়। গত জু’ন মা’সের শে’ষ দি’কে সি’জারের মা’ধ্যমে ও’ই কি’শোরী মে’য়ে স’ন্তান জ’ন্ম দে’য়। প’রে না’ঙ্গলকোট থা’নার অ’ফিসার ই’নচার্জ (ওসি) ব’খতিয়ার উদ্দিন চৌ’ধুরীর ম’ধ্যস্থতায় কি’শোরীর মে’য়ে স’ন্তানটিকে

নো’য়াখালীর চৌ’মুহনীতে এক নিঃ’সন্তান দ’ম্পত্তির নি’কট দ’ত্তক দে’য়া হ’য়। সন্তা’নটিকে দত্ত’ক দে’য়ার শ’র্ত

ছি’ল, ডি’এনএ পরী’ক্ষাসহ মা’মলার ত’দন্তের স্বা’র্থে যে কো’ন স’ময় স’ন্তানটিকে হা’জির কর’তে হ’বে। প’রে কি’শোরীর স’ন্তানের ডি’এনএ পরী’ক্ষা ক’রা হ’য়।

আরব আমিরাতে কোবিড-১৯সতর্কতা ব্যবস্থা ল;ঙ্ঘন করায় ৯টি সংস্থার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিল !

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোবিড -১৯ সতর্কতা ব্যবস্থা লঙ্ঘন না করে এমন নিশ্চিত করার জন্য দুবাই পৌরসভা পরিবেশগত স্বাস্থ্য সংস্থা, খাদ্য সংস্থা এবং তাদের বাজারগুলির কঠোর পরিদর্শন করে।

একটি টুইট বার্তায় দুবাই পৌরসভা জোর দিয়েছে যে জননিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপের মূল্যায়ন করার জন্য পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের ডেটা মনিটরিং করা হবে ।

দুবাই পৌরসভা পরিদর্শক বিভাগ প্রকাশ করেছে যে বিভিন্ন ধরণের ৩৫০ টি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করার পরে ৮ ধরণের সুরক্ষা ব্যবস্থা আইন ল ; ঙ্ঘন করায় ৯ টি সংস্থার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ।

যদিও ৩৩৩ টি সংস্থা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়েছিল, সমস্ত প্রতিষ্ঠানের মোট প্রতিশ্রুতি অনুপাত ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত নিয়েছে ।

বাংলাদেশসহ সোয়া লাখ প্রবাসীর আকামা বাতিল করছে কুয়েত !

বাংলাদেশসহ সোয়া লাখ প্রবাসীর আকামা বাতিল করছে কুয়েত।ছুটিতে নিজ দেশে গিয়ে আটকেপড়া বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রা সোয়া লাখ প্রবাসীর আকামা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েত সরকার।

ফলে এসব শ্রমিক আর দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। এর মধ্যে বাংলাদেশী থাকতে পারে ২৫ হাজার।তবে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,

করোনার কারণে দেশে আটকেপড়া প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ একটি তালিকা দূতাবাস থেকে তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে প্রবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, করনা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতের

কর্মস্থল থেকে বাংলাদেশে গিয়ে আটকেপড়া প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ একটি তালিকা কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ওই তালিকায় আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত করুন।

ওই তথ্যাদির ভিত্তিতে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে প্রবাসীদের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

নতুন খবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

বাংলাদেশে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে টানা পাঁচদিন বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। দেশের কোথাও হালকা থেকে

মাঝারি, আবার কোথাও ভারি বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফর আরও জানায়, ভারতেও বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা

প্রবল। ফলে নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এতে করে ফের অস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে বন্যা হওয়ার শঙ্কা খুবই কম।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, বরগুনার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে। এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের

পর্যবেক্ষণে থাকা ১০১টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৫৩টির পানি বেড়েছে। কমেছে ৪৭টি, আর একটি স্টেশনের অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে বিপৎসীমার ওপরে ওঠা নদীর সংখ্যা তিনটি। কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর পানি ১১

সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এদিকে আবহওয়া অফিসের তথ্য মতে, ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি জেলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে। যেটি আজও অব্যাহত থাকতে পারে।